শিরোনাম
◈ বিরতির পর আবারও শুরু বাংলাদেশ-ভারত আলোচনা, তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে তৎপরতা ◈ এশিয়ার অধিকাংশ মুদ্রা দুর্বল, ডলারের বিপরীতে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশি টাকা ◈ যুদ্ধের মধ্যেই জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানি নেতাদের ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র ◈ দিল্লিতে ভয়াবহ ঘটনা: পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধারের পর বেরিয়ে এলো কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনা, দেহের অংশ খেয়ে ফেলে কুকুরে ◈ টিসিবির ডিলারশিপ ফিরে পেতে বাণিজ্যমন্ত্রীর গাড়ি আটকালেন আন্দোলনকারীরা ◈ বাঁশের ৭ গুণ, যা শুধু গাছ নয় পরিবেশ ও মানুষের জীবনে রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ◈ ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরে পেমেন্টের টাকা তাৎক্ষণিক জমা দেওয়ার নির্দেশ ◈ আওয়ামী লীগের তৎপরতা ঘিরে ভীষণ চাপের মুখে পুলিশ ◈ বাব আল-মানদাবে হুতিদের দখল, পিছু হটছেন ট্রাম্প? ◈ ছয় মাস পর চালু, একদিন না যেতেই ফের বন্ধ সিইউএফএল

প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৩ দুপুর
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যুদ্ধের মধ্যেই জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানি নেতাদের ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র

এএফপি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য তাদের এই ভিসা দেওয়া হয়েছে বল জানায় এএফপি।

বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, জাতিসংঘের বৈঠকে অংশ নিতে ইরানের ‘মূল প্রতিনিধিদল’ এবং তাদের প্রয়োজনীয় কর্মীদের ভিসা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এই প্রতিনিধিদলে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি রয়েছেন। ভিসা-সংক্রান্ত গোপনীয়তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এসব তথ্য দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সংঘাত চলছে।

advertisement

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া বা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়ে শিগগির কোনো সমঝোতা হতে পারে—এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিতও নেই।

এর মধ্যে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে। লোহিত সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।

advertisement

এই পথসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান এখনো বিশ্বের অন্যতম প্রধান সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নকারী রাষ্ট্র। এ কারণে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের ‘গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক আয়ের পথ’ বন্ধ করার লক্ষ্যেও নতুন অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জাতিসংঘের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ায় সাধারণ পরিষদের বৈঠকে বিদেশি নেতাদের অংশগ্রহণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা সীমিত।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে থাকা কিছু দেশের নেতাদের ভিসা দেওয়া হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের ভিসার আবেদন না করতেও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

advertisement

গত বছরও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে অংশ নিতে ইরানি কূটনীতিকদের সীমিতসংখ্যক ভিসা দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ওই বৈঠক হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর আগে। তবে ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পরমাণু স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর পর সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেসময় ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাফেরায় কঠোর বিধিনিষেধ ছিল।

নিউইয়র্কে ইরানের জাতিসংঘ মিশন থেকে কর্মকর্তারা কত দূর যেতে পারবেন, তার ওপরও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এমনকি কস্টকো ও স্যামস ক্লাবের মতো সদস্যভিত্তিক পাইকারি দোকান থেকেও তাদের কেনাকাটা করতে দেওয়া হয়নি। এবার ইরানি প্রতিনিধিদলকে ভিসা দেওয়ার ঘোষণা আসে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও তার প্রতিনিধিদলকে সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য ভিসা না দেওয়ার এক দিন পর।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, জাতিসংঘের সদর দপ্তরের স্বাগতিক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব অনুযায়ী ইরানের মূল প্রতিনিধিদল সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে অংশ নিতে পারবে। তবে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ওপর ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিমালা অনুযায়ী বিলাসপণ্যসহ কিছু পণ্য কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। দপ্তরটি আরো জানিয়েছে, এবারের ইরানি প্রতিনিধিদল গত বছরের তুলনায় ছোট। ইরানি কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়ার ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন এর আগের দিন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও তার প্রতিনিধিদলকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য ভিসা না দেওয়ার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশ পরিচালনা করা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধকে ‘আন্তর্জাতিকীকরণ’ করার চেষ্টা করার অভিযোগ করেছে। দপ্তরটির দাবি, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) ইসরায়েল-সংক্রান্ত মামলা নিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলে ইসরায়েলিদের ওপর হামলার জন্য কারাগারে থাকা বন্দীদের ভাতা দেওয়াও তারা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডই ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং শান্তির সম্ভাবনার জন্য প্রকৃত হুমকি’।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আরো বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে থেমে থাকা শান্তি আলোচনায় তারা এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আদালতের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি পাওয়ার প্রচেষ্টাকেও তারা সমর্থন করে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও বিধিনিষেধ আরোপ করলে শান্তি প্রতিষ্ঠা বা সহিংসতা বন্ধে কোনো ভূমিকা রাখবে না।

বরং এসব পদক্ষেপ রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকা ফিলিস্তিনি পক্ষকে দুর্বল করবে। একই সঙ্গে এতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ঠেকাতে এবং দখলদারত্ব, বসতি স্থাপন ও জোর করে ভূখণ্ড দখলের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাওয়া শক্তিগুলো উৎসাহিত হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য কোনো রাষ্ট্রের সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে স্বীকৃতি দেয়।

  • সর্বশেষ