আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব কিংবা ফ্যাশন শোর রেড কার্পেট, দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। সেই তালিকায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন কিংবা আলিয়া ভাটের নাম অনেক পরে যুক্ত হয়েছে।
এমনকী গত দুই দশকে এক বিশেষ প্রসাধনী দ্রব্যের বিজ্ঞাপনী দূত হিসেবে বিশ্বমঞ্চ মাতিয়ে এসেছেন সাবেক এই বিশ্ব সুন্দরী।
এবারের প্যারিস ফ্যাশন উইকেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি! কিন্তু পঞ্চাশোর্ধ্ব অভিনেত্রীর শরীরী গড়ন নিয়ে নেটভুবনে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কিছু মানুষ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আইফেল টাওয়ারের নিকটবর্তী ‘প্লেস জোফ্রে’তে আয়োজিত লরিয়াল প্যারিসের ‘লে ডেফিলে’ অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন ঐশ্বরিয়া। যেখানে কাইলি জেনার, সেলিন ডিওন, সিমোন অ্যাশলি, ইভা লঙ্গোরিয়া এবং কারা ডেলিভিঞ্জের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের সঙ্গে র্যাম্পে মাতিয়েছেন।
তবে নিন্দুকদের মুখ সমালোচনা বচ্চনবধূর শরীরী গড়ন নিয়ে। কয়েকদিন আগেই ক্যাটরিনা কাইফকে বডি শেমিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল।
নিন্দুকদের দাবি, মা হওয়ার পর নায়িকা এতটাই মোটা হয়েছেন যে তার ক্যারিয়ার একেবারে শেষ! সেই প্রসঙ্গ টেনেই এবার নেটপাড়ার একাংশ ঐশ্বরিয়াকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, ‘৫২ বছর বয়সে কি আবার মা হচ্ছেন?’ কারও বা প্রশ্ন, ‘আপনি কি অন্তঃসত্ত্বা?’ একাংশ আবার ‘মোটা মহিষ’ বলেও কুৎসিত আক্রমণ করেছেন তাকে।
এখানেই শেষ নয়, একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন ঐশ্বরিয়ার ফ্যাশন সেন্স নিয়েও। তাদের কথায়, ‘কী ভয়ানক পোশাক পরেছেন!’ কেউ জানতে চেয়েছেন, ‘আর কোনও মডেল ছিল না?’ কেউ আবার ‘ওজেম্পিক’-এর মাধ্যমে ওজন কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
প্যারিস ফ্যাশন উইক থেকে ফাঁস হওয়া ছবি-ভিডিও ভাইরাল হতেই ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ, সমালোচনার শেষ নেই। তবে মজার বিষয়, এবার সংশ্লিষ্ট ফ্যাশন শোয়ের ট্যাগলাইনই ছিল ‘এক্সপ্রেস ইউর ওয়ার্থ’। অর্থাৎ, ‘তুমি যে নিজের কাছে বড্ড দামি’- সেই মন্ত্রই বিশ্বমঞ্চ থেকে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন ঐশ্বরিয়াসহ ফ্যাশন শোয়ে যোগ দেওয়া বড় বড় তারকারা।
কিন্তু সেখানে হাঁটার পরই ‘বডি শেমিং’য়ের শিকার হতে হল সাবেক বিশ্বসুন্দরীকে। অতীতেও অবশ্য শারীরিক গড়ন নিয়ে কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। তবে শেষবার কান মঞ্চে গিয়ে নিন্দুকদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক দারুণ বার্তা দিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া।
নারীদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমার শরীর, আমার সম্পদ- ভাবতে শিখুন। নিজের মূল্যের সঙ্গে কখনও আপোস করবেন না। নিজেকে নিয়ে কখনও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগবেন না। আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন। দরকারে নিজের জন্য নিজে উঠে দাঁড়িয়ে লড়ুন। কিন্তু কখনও নিজের সাজপোশাক কিংবা লিপস্টিক শেডের দোষ দেবেন না। মনে রাখবেন, রাস্তাঘাটে হেনস্তার শিকার হলে সেটা কখনোই আপনার দোষ নয়।