মনিরুল ইসলাম : কবিতা, গান আর বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদ—এই তিনের অনন্য মেলবন্ধনে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)।
শুক্রবার ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘কবিতা, পিঠা ও গান: মিলনে-আনন্দে আমাদের গুণীজন’ শীর্ষক এই আয়োজনটি হয়ে ওঠে এক আনন্দঘন সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।
বাচসাস সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতিমান কবিরা স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। আবৃত্তিতে অংশ নেন কবি আতাহার খান, শিহাব সরকার, মাহমুদ শফিক, হাসান হাফিজ, শামীমা চৌধুরী, দিলদার হোসেন, শান্তা মারিয়া, দুলাল খান, সাঈদ আহমেদ খান, সেলিনা শিউলি ও দীপংকর দীপক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, যিনি শুভেচ্ছা বক্তব্যের পাশাপাশি স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করে অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করেন।
অনুষ্ঠানে বাচসাস সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ ও সাধারণ সম্পাদক রাহাত সাইফুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি অংশগ্রহণকারী কবি ও গীতিকবিদের হাতে সম্মাননা স্মারক এবং বাচসাসের নিজস্ব প্রকাশনা ‘বাচসাস ভয়েস’ তুলে দেন।
এদিকে, দেশের খ্যাতিমান গীতিকবিদের লেখা গান পরিবেশন করে সংগীতশিল্পীরা অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন। গীতিকবিদের মধ্যে ছিলেন সাহাবুদ্দিন মজুমদার, জাহিদ আকবর, মাহমুদ মানজুর, রবিউল ইসলাম জীবন, রোজাউর রহমান রিজভী, তারেক আনন্দ, ওমর ফারুক ও আশিক বন্ধু। তাদের লেখা গান পরিবেশন করেন কানিজ সুবর্ণা, কামরুজ্জামান রাব্বি, কাজী শুভ, নদী, রাইসা খান, মুহাম্মদ মিলন ও অভি তালুকদার।
কবিতা ও গানের পাশাপাশি অতিথি ও সদস্যরা পিঠা উপভোগ করেন, যা অনুষ্ঠানে বাঙালিয়ানার এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। উপস্থিত কবি ও গীতিকবিরা তাদের বক্তব্যে বাচসাসের ইতিহাস ও সাংবাদিকতার নানা স্মৃতি তুলে ধরেন, যা শ্রোতাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রথিতযশা চলচ্চিত্র পরিচালক ছটকু আহমেদ, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মহাসচিব লিটন এরশাদ, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন, বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনিরুল ইসলাম, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশের সভাপতি কাদের মনসুর, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহ-সভাপতি ডি এ তায়েব ও চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তিসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা।
উপস্থিত অতিথি ও সদস্যরা এই আয়োজনকে ব্যতিক্রমী হিসেবে অভিহিত করে বাচসাসের বর্তমান কমিটিকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ আয়োজনের ব্যাপক প্রশংসা দেখা গেছে।
কবিতা, গান ও পিঠার আবহে বাচসাসের এই উদ্যোগটি হয়ে ওঠে এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলা, যা উপস্থিত সকলকে দেয় আনন্দময় ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।