মনিরুল ইসলাম : রুপোলি পর্দায় প্রেমের গল্পের পরিণতি প্রায়শই বিয়েতে গড়ায়। কিন্তু বাস্তব জীবনের সমীকরণ ভিন্ন। বলিউডের বহু জনপ্রিয় তারকার জীবনে প্রেম এসেছে, এসেছে একাধিক বিয়ের প্রস্তাবও— তবু শেষ পর্যন্ত তাঁরা বেছে নিয়েছেন একাকী কিংবা নিজস্ব শর্তে গড়া জীবন।
এই তালিকায় অন্যতম নাম তাবু অভিনয়ের জন্য প্রশংসা যতটা, ব্যক্তিজীবন নিয়ে রহস্যও ততটাই। দীর্ঘদিন নাগার্জুন-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গেলেও তা কখনও পরিণতি পায়নি। ব্যক্তিগত জীবনকে বরাবরই আড়ালে রেখেছেন তব্বু। ভক্তদের কাছ থেকে বিয়ের প্রস্তাবও এসেছে বহুবার, কিন্তু ‘সিঙ্গল’ পরিচয়ই রয়ে গেছে তাঁর জীবনে।
অন্যদিকে, বলিউডের সত্তর দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশা পারেখ প্রেমকে গ্রহণ করলেও বিয়ের ক্ষেত্রে আপস করেননি। পরিচালক নসীর হুসেন-এর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক থাকলেও, তিনি বিবাহিত হওয়ায় সেই সম্পর্ককে বিয়েতে রূপ দিতে চাননি। পরবর্তীতে একাধিক সম্বন্ধ এলেও কোনওটিই গন্তব্যে পৌঁছায়নি— এবং এ নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপও নেই।
অভিনেত্রী দিব্যা দত্ত-র জীবনেও খুব অল্প বয়সে বিয়ের প্রস্তাব আসে। কিন্তু অভিনয়ের স্বপ্নকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পরিবারের সমর্থন, বিশেষ করে মায়ের সিদ্ধান্ত, তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়— আজ তিনি নিজস্ব পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত।
একইভাবে, সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন বিয়ের পথে না হাঁটলেও নিজের মতো করে পরিবার গড়েছেন। দুই কন্যাসন্তানকে দত্তক নিয়ে মাতৃত্বকে গ্রহণ করেছেন, প্রমাণ করেছেন— সংসার মানেই বিয়ে নয়।
বিয়ে প্রসঙ্গে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি সালমান খান। তাঁর জীবনে একাধিক সম্পর্কের খবর সামনে এলেও বিয়ের সিদ্ধান্তে তিনি বরাবরই নীরব। প্রকাশ্যে ভক্তদের বিয়ের প্রস্তাবও পেয়েছেন, যার জবাব দিয়েছেন রসিকতার সঙ্গেই। কিন্তু কেন এখনও বিয়ে করেননি— সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা।
এই তারকাদের জীবনকাহিনি একটাই বার্তা দেয়— বিয়ে না করাটা ব্যতিক্রম নয়, বরং এক ধরনের সচেতন সিদ্ধান্তও হতে পারে। কারও কাছে ক্যারিয়ার, কারও কাছে স্বাধীনতা, আবার কারও কাছে আত্মসম্মানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রুপোলি পর্দার ‘হ্যাপি এন্ডিং’-এর বাইরে বাস্তব জীবনের গল্পগুলো তাই আরও বেশি বাস্তব, আরও বেশি ব্যক্তিগত। এখানে শেষ কথা একটাই— নিজের জীবনের চিত্রনাট্য নিজের হাতেই রাখতে চেয়েছেন এই তারকারা। তথ্য সূত্র : আনন্দবাজার ডটকম