ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত একাধিক সিনেমা নিয়ে দর্শক মহলে চলছে বিস্তর আলোচনা। বিশেষ করে কিছু চলচ্চিত্রের গল্প, উপস্থাপনা ও নির্মাণভাষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক দর্শক মন্তব্য করছেন, সিনেমাগুলোর অনেক অংশই তাদের কাছে দুর্বোধ্য মনে হয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকলে কয়েকটি সিনেমার নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, এসব সিনেমা মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির দর্শকদের জন্য নির্মিত, সব দর্শকের জন্য নয়।
এমন বক্তব্যের বিপরীতে সরব হয়েছেন ‘প্রিয়তমা’ ও ‘রাজকুমার’ খ্যাত নির্মাতা হিমেল আশরাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দর্শকের রুচি ও বোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতার সমালোচনা করেন।
হিমেল আশরাফ লিখেছেন, সিনেমা সব দর্শকের না। ভাই, দুনিয়ার কোনো সিনেমাই সব দর্শকের না। কিন্তু আপনার সিনেমা যদি খুব স্পেসিফিক কোনো দর্শকের জন্যই হয়, সেটা রিলিজের আগে বলবেন। তাতে মধ্যবিত্ত মানুষের টাকা ও সময় নষ্ট হবে না।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষামূলক বা বিশেষ দর্শকনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্মাতাদের দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। তার ভাষায়, সব দর্শকের জন্য না বানালে নিজের টাকায় সিনেমা বানাবেন। প্রযোজকের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করে এক্সপেরিমেন্ট কইরেন না। তাইলে অন্তত ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রযোজকগুলোও আমরা হারাব না।
পোস্টে বাংলাদেশের দর্শকদের রুচি ও গ্রহণক্ষমতা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন এই নির্মাতা। তিনি মনে করেন, দেশের দর্শক শুধু বাণিজ্যিক সিনেমাই নয়, ভালো গল্পনির্ভর চলচ্চিত্রও গ্রহণ করার সক্ষমতা রাখেন।
তিনি লেখেন, এই দেশে যেমন ‘প্রিয়তমা’, ‘তুফান’, ‘বরবাদ’ সুপারহিট হয়েছে, তেমনি ‘মনপুরা’, ‘হাওয়া’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-ও সুপারহিট হয়েছে। দয়াকরে এই দেশের দর্শকের মেরিট নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না।
সবশেষে চলচ্চিত্রের সাফল্যের অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে দর্শকের গ্রহণযোগ্যতার প্রসঙ্গ টেনে হিমেল আশরাফ প্রশ্ন রাখেন, আপনার সিনেমা যদি নির্মাণের টাকাও না তুলতে পারে, তাইলে সেটা ঠিক কোন দর্শকের জন্য বানাইছেন, নিজেকে প্রশ্ন করেন।
সূত্র: সমকাল