বাংলাদেশের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা পুনরায় শুরু করার জন্য নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের যে প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, তাকে ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রস্তাবের বিষয়ে সরকারের ভাবনা জানতে চাইলে সোমবার তিনি বলেন, “পজিটিভ। সরকারের ভাবনা পজিটিভ। আমাদের এগেইন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে কোনো দ্বিপক্ষীয় এগ্রিমেন্ট, সম্পর্ক যদি বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে হয়, তাহলে আমরা সামনে আগাব।
“আর যদি বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে না হয়, তাহলে সেটা আমরা পুনর্বিবেচনা করব। তো এটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে যদি ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসে, আমাদের অর্থনীতিতে ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসে, আমাদের সম্পর্ক গভীর করতে ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসে, অবশ্যই।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার এমওইউ নবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র প্রথম বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করে ১৯৮১ সালে। ১৯৯১ সালে সেটি নবায়ন করা হলেও পরে আর নবায়ন হয়নি।
এখন নতুন এমওইউ সইয়ের মাধ্যমে সহযোগিতা কাঠামোকে আবার কার্যকর করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এমন এক সময়ে ওয়াশিংটনের এ প্রস্তাব এসেছে, যখন রাশিয়ার সহযোগিতায় রূপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, এটি মূলত দুই দেশের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য একটি নতুন আইনি ভিত্তি তৈরি করবে। সহযোগিতার পরিধি বিস্তৃত হলেও তা কেবল শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
পারমাণবিক জ্বালানি আইনের অধীনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতার চুক্তি করে থাকে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। ওই আইনের ১২৩ ধারায় অধীনে হওয়ার কারণে এটা ‘১২৩ অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২৬টি দেশ ও সংস্থার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন চুক্তি রয়েছে; যার অধীনে অন্তত ৫০ দেশের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি করেছে দেশটি।