বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে ডিবিএল গ্রুপসহ দেশের বিভিন্ন পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে— এমন খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলেছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
সোমবার আলাদা বার্তায় তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের দুই সংগঠন এ বক্তব্য তুলে ধরে।
ডিবিএলের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, তাদের কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। যে খবর ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়।
সোমবার বিজিএমইএর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে ডিবিএল গ্রুপসহ একাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরটি বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিজিএমইএ স্পষ্ট ভাষায় জানাচ্ছে যে, তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন।
“এতে করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, যা আমাদের পোশাক শিল্পের স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।”
‘প্রকৃত পরিস্থিতি’ তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট থাকা সত্ত্বেও সরকারের সহযোগিতায় বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানাগুলো প্রাণপণ চেষ্টা করে এখন পর্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন কার্যক্রম সচল রেখেছে।
“আগামী ৫ অগাস্টের সরকারি ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটির সমন্বয় সাধনে অনেক কারখানা বৃহস্পতিবার ছুটি দিচ্ছে, যা পরবর্তীতে বিধি মোতাবেক সমন্বয় করে নেওয়া হবে। গ্যাস সংকটের কারণে এটি শিল্পের একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত কর্মপদ্ধতি; কারখানা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “যাচাই-বাছাই ব্যতীত কারখানা বন্ধের মতো স্পর্শকাতর ও ভুল সংবাদ পরিবেশন করা হলে তা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও অংশীদারদের মাঝে চরম বিভ্রান্তি ও অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
“এ ধরনের অপপ্রচার আমাদের পোশাক খাতের অর্জিত বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করে এবং পুরো শিল্পের পাশাপাশি এর ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।”
বিজিএমইএ বলেছে, “তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। এই শিল্পের স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশন করার জন্য বিজিএমইএ গণমাধ্যমসহ সব মহলের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছে।”
অন্যদিকে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এক বিবৃতিতে বলেছেন, “গ্যাস সংকটের কারণে ডিবিএল গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সংবাদটি সঠিক নয়।
“আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, গ্যাস বা বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকটের কারণে কোনো কারখানা বন্ধ করা হয়নি।”
ডিবিএলের কারখানা বন্ধের বিষয়টি জানতে গ্রুপটির কোম্পানি সচিব শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের গ্যাসের চাহিদা কম। বিদ্যুৎ আর ডিজেল নির্ভরতা বেশি। কোনো কারখানান বন্ধ করা হয়নি। গ্যাসের জাতীয় যে সংকট চলছে, তার চেয়ে বেশি প্রভাব নেই।
পরে ডিবিএল এ বিষয়ে একটি বিবৃতিতে পাঠায়।
তারা বলেছে, “কিছু সংবাদপোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিবিএল গ্রুপের সকল কারখানা বন্ধের যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তা সঠিক নয়। অনুগ্রহ করে কেবলমাত্র ডিবিএল গ্রুপের অফিসিয়াল বার্তার উপর নির্ভর করুন।”
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম