মনিরুল ইসলাম : বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ গত ২৪ এপ্রিল শেষ হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে কে কে লড়বেন তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এফডিসিতে এটাই মূখ্য আলোচনায় সরব ভোটার ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। সেই হিসাবে আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতেই হবে। যদি কোন আইনী জটিলতার সৃষ্টি না হয়।
আগামী ১০ মে প্রবাস থেকে বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি মিশা সওদাগর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।মিশা সওদাগর ঢাকায় আসার পর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানা যায়। সূত্র জানায়,জুলাই মাসে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন চিত্র নায়ক বাপ্পারাজ। নায়করাজ রাজ্জাক এর জ্যেষ্ঠ তনয়।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হলেন তার পিতা কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক। ১৯৮৪ সালে এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এবার তার ছেলে নির্বাচনে লড়বেন বলে চাউর রয়েছে। তিনি একজন সুঅভিনেতা। একজন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চিত্র নায়ক।
চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ ও চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি এক প্যানেল থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন বলে চলচ্চিত্রাঙ্গনের সর্বত্র আলোচনা মুখর। এই প্যানেলটি হলে শিল্পী সমাজ আবার তাদের পুরনো অধিকার ফিরে পেতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ এই প্যানেলকে অভিনন্দন জানিয়ে কমেন্ট করছেন।
বাপ্পারাজ সভাপতি পদে আলোচনায় থাকলেও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা দেননি। তিনি আলাপকালে জানান, ভাই এখনো কিছু কনফার্ম হয় নাই মোটামুটি আলোচনা চলছে। অফিশিয়ালি যখন ফাইনাল হবে আমি তখন জানাবো ইনশাআল্লাহ।
তবে, সাধারণ সম্পাদক পদে চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েন। প্যানেল গড়তে জোরেশোরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।
মুক্তি বলেন, আমার মা (আনোয়ারা) সব সময় চাইতেন, আমি যেন শিল্পীদের কল্যাণে আরও বড় দায়িত্বে যাই। তার ইচ্ছা ছিল, আমি যেন শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে থেকে কাজ করি। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই এবার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি সকলের সহযোগিতা চাই।
অন্যদিকে, একটি সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে দুটো প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হবে। একটি প্যানেলে বাপ্পারাজ ও মুক্তির। অন্যটিতে, সভাপতি পদে শিবা সানু ও সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।