শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ০৯ মে, ২০২৬, ১১:৩১ দুপুর
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

নন্দীগ্রামের ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারী এখন মুখ‌্যমন্ত্রী

আন্তর্জা‌তিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিগত পাঁচ বছর প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে নানা আন্দোলন সংগ্রামে নিজেকে প্রমাণ করা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী শপথ নিচ্ছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে।

৫৫ বছর বয়সী যে শুভেন্দু এক সময় ছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সেই তিনিই ২০২০ সালের পর থেকে হয়ে ওঠেন তৃণমূল নেত্রীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

advertisement

পরপর দুই বিধানসভা নির্বাচনে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে হারিয়ে এরইমধ্যে ভারতজুড়ে ‘জায়ান্ট কিলার’ আখ্যা পেয়েছেন তিনি। ফলে শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে গোটা ভারতেই।

ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। বিজেপির হয়ে সবথেকে বড় সাফল্য ছিনিয়ে আনা এবং নিজের প্রাক্তন নেত্রীকে আবারও পরাজিত করার মধ্য দিয়ে তার এই উত্তরণ।

advertisement

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে বামপন্থিদের বিরুদ্ধে রাজপথের কঠিন লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের প্রধান মুখ হয়ে ওঠা শুভেন্দুর রাজনৈতিক সফর এখন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ মাইলফলকে পৌঁছেছে।

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের ‘হাই ভোল্টেজ’ লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর বিজেপির ভেতরে শুভেন্দুর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। পাঁচ বছর পর ৪ মে তিনি আবারও সেই অসাধ্য সাধন করেছেন।

advertisement

এবার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন ভবানীপুরে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবথেকে নিরাপদ ‘রাজনৈতিক দুর্গ’ বলে বিবেচিত হত। মমতাকে সেখানে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু, যা পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ‘রাজনৈতিক অঘটন’।

শুভেন্দু তার দ্বিতীয় কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও তৃণমূলের প্রভাবশালী প্রার্থী পবিত্র করকে সাড়ে ৯ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন। এই জয়গুলো তাকে বাংলার বুকে বিজেপির সবথেকে বড় মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং রাজ্যে দল ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য তার দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

মমতার ‘ট্রাবলশুটার’ থেকে বিজেপির ‘বেঙ্গল ফেইস’ হিসেবেও শুভেন্দুকে অভিহিত করেছে ইন্ডিয়া টুডে। কারণ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর শুভেন্দুকেই তৃণমূলের দ্বিতীয় প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দেখা হত।

তবে দলে মমতার ভাইয়ের ছেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব ক্রমাগত বাড়তে থাকায় শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে শুভেন্দুর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে মতপার্থক্য এত তীব্র হয়ে ওঠে যে ২০২০ সালের নভেম্বরে তিনি মমতা সরকারের পরিবহন ও সেচ মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন, যা তীব্র রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দেয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরেই শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেন, যা ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে শাসক দল তৃণমূলের জন্য ছিল এক বিরাট ধাক্কা।

শুভেন্দুর এই দলবদল রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নাটকীয়ভাবে বদলে দিয়েছিল। ২০২১ সালে বিজেপি ৭৭টি আসন পেলেও শুভেন্দু বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে দলের সবচাইতে ‘আক্রমণাত্মক কণ্ঠস্বর’ ছিলেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের এক শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া শুভেন্দু অধিকারী তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন কংগ্রেসের হাত ধরে। ১৯৯৫ সালে তিনি কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করার পর অধিকারী পরিবার তাতে যোগ দেয়। শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী তিনবারের বিধায়ক ছিলেন এবং ইউপিএ-২ সরকারের সময় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শুভেন্দু নিজেও ইউপিএ-১ এবং ইউপিএ-২ সরকারের সময় দুই মেয়াদে বিধায়ক নির্বাচিত হন।

২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলনের সময় শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থান ত্বরান্বিত হয়। মমতার পাশে থেকে ওই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নন্দীগ্রামের ওই আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য বিখ্যাত। কারণ এই আন্দোলনের কারণেই ২০১১ সালে রাজ্যে বাম সরকারের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটে বলে বিশ্বাস করা হয়।

২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে শুভেন্দু তমলুক আসন থেকে সিপিএমের প্রভাবশালী নেতা লক্ষ্মণ শেঠকে দেড় লাখের বেশি ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালেও তিনি সেই আসন ধরে রাখেন। ২০১৬ সালে বিধানসভায় অভিষেক হয় শুভেন্দুর। তিনি নন্দীগ্রাম আসনে জয়লাভ করেন এবং মমতা সরকারের মন্ত্রিসভায় পরিবহন মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে কম বিতর্কে জড়াননি শুভেন্দু। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ‘সারদা চিটফান্ড কাণ্ডে’ সিবিআই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। এছাড়া বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানারকম আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে তিনি শিরোনাম হন।

  • সর্বশেষ