স্পোর্টস ডেস্ক : আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকা লিওনেল মেসি মনে করেন, নেইমার বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তাই ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে তার উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকা ‘লো দেল পোলো’ অনুষ্ঠানে পোলো আলভারেজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা চাই বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়রাই অংশ নিক। নেইমারের বর্তমান ফর্ম যেমনই হোক না কেন, সবসময়ই সে সেরাদের একজন।
মেসি আরও বলেন, ‘ব্রাজিল এবং ফুটবলের জন্য নেইমারের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই তাকে বিশ্বকাপে দেখতে পারাটা দারুণ ব্যাপার হবে। আমি আশা করি সে সেখানে থাকবে। আমার মতে নেইমারের সবসময়ই বিশ্বকাপে থাকা উচিত।
নেইমারের সাথে মেসির সম্পর্কটা বন্ধুত্বের। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও মাঠের বাইরের সম্পর্কের কারণেই নেইমারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন মেসি। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড যেন আবারও নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেন এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে নেন— এমনটাই প্রত্যাশা আর্জেন্টাইন মহাতারকার। নেইমার আমার বন্ধু … অবশ্যই, আমি চাইবো সে বিশ্বকাপে থাকুক, তার সাথে ভালো কিছু ঘটুক, কারণ সে যেমন মানুষ, তাতে এটা তার প্রাপ্য। এবং আমি আশা করি সে সেখানে থাকতে পারবে। -- সময়নিউজ
মেসির বর্তমান বয়স ৩৮, আর নেইমারের ৩৪। বার্সেলোনার জার্সিতে একসঙ্গে তারা চারটি মৌসুম খেলেছেন। এছাড়া পিএসজিতেও দুই মৌসুম একসাথে খেলেছেন মেসি ও নেইমার। সেখান থেকে তাদের বন্ধুত্বটাও আরও মজবুত হয়েছে। ২০২৩ সালে পিএসজি ছাড়েন দুজনেই। মেসি যোগ দেন আমেরিকার মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। আর নেইমার পাড়ি জমান সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল হিলালে।
নেইমারের সম্পর্কে মেসি বলেন, ‘তার এক বিশেষ ধরনের আকর্ষণ আছে। সে অভিনয় করে না, পরিণতির চিন্তা না করে নিজের অনুভূতি অনুযায়ী জীবনযাপন করে। সে তার মতো করে বাঁচে, সে সুখী এবং খুবই স্বাভাবিক।
চোটের কারণে আল হিলালের হয়ে নিয়মিত মাঠে নামার সুযোগ পাননি নেইমার। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় আগে তিনি শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে যান। সেখানে আবারও নিজের ছন্দ ও ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। নেইমারের লক্ষ্য, পুরোনো সেরা ফর্মে ফিরে ব্রাজিলের জার্সিতে আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে নামা— যা হবে তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ।
চোট ও ছন্দহীনতার কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর আর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামা হয়নি নেইমারের। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার ঘোষিত প্রতিটি স্কোয়াডের বাইরে রাখা হয়েছে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭৯ গোলের মালিক নেইমারকে। ফলে নেইমারের জাতীয় দলে ফেরা ও বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে অনিশ্চয়তা।
গত মাসে লা কিপ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেছিলেন, ‘সে শতভাগ ফিট হয়ে ফিরতে সক্ষম।’ ২২শে ডিসেম্বর নেইমারের বাম হাঁটুতে একটি ছোট অস্ত্রোপচার হয়েছিল। মার্চের শেষের দিকেও তার হাঁটুতে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।