জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির জন্য অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধনের ফরম পূরণ করেও যারা দীর্ঘদিন বায়োমেট্রিক তথ্য দেননি, তাদের ঝুলন্ত আবেদন এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান না করলে সেই আবেদন আর সিস্টেমে বহাল থাকবে না।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনো নাগরিক নতুন এনআইডি কার্ড বা তথ্য সংশোধনের আবেদন জানানোর পর দীর্ঘ সময় পার হলে সার্ভার ও ডেটাবেজ থেকে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার এ প্রযুক্তিগত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র আবেদনকারীদের যেসব গাফিলতির কারণে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে—
১. বায়োমেট্রিক না দেওয়া : অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের পর নির্ধারিত বুথ বা মাঠপর্যায়ের নির্বাচন অফিসে গিয়ে সময়মতো ছবি না তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ যাচাই না করা।
২. অপ্রয়োজনীয় আবেদনের চাপ : আবেদন করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখার ফলে সার্ভারে জট তৈরি হওয়ায় কমিশন নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পর তা স্থায়ীভাবে বাতিল বা ডিলিট করে দেবে।
৩. সংশোধন আবেদন ঝুলে থাকা : নাম, ঠিকানা বা জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করে দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় দলিলাদি বা বায়োমেট্রিক বায়ো-ডেটা মাঠপর্যায়ে জমা না দেওয়া।
পুরনো নথি ও ফরম নিষ্পত্তিতে ইসির কঠোর পদক্ষেপ
সার্ভার ও ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের উপজেলা ও জেলা নির্বাচন অফিসে জমা থাকা পুরনো কাগজপত্র সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
২০১২ পরবর্তী ফরম অপসারণ : ২০১২ সাল থেকে মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে সংরক্ষিত যেসব ভোটার নিবন্ধন ফরম (ফরম-২) ইতিমধ্যে স্ক্যান করে সার্ভারে আপলোড করা হয়েছে, সেই কাগজগুলো অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ : নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই সমস্ত মাঠপর্যায়ের কার্যালয়কে অপ্রয়োজনীয় নথিপত্র সরিয়ে ফেলার কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
২০১১ সাল পর্যন্ত নথি সংরক্ষণ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখ পর্যন্ত নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত মূল ভোটার নিবন্ধন ফরমসমূহ অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে আগের মতোই অফিসে সংরক্ষিত থাকবে।
তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা : বাতিলের জন্য নির্ধারিত পুরনো কাগজপত্র কোনোভাবেই খোলা বাজারে বিক্রি করা যাবে না। তথ্যের গোপনীয়তা ও পরিবেশগত সুরক্ষা রক্ষায় এসব কাগজ দিয়ে সরাসরি মণ্ড তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।