শিরোনাম
◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে ◈ আফগান লিগে নাম লেখালেন তাসকিন

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:১৮ রাত
আপডেট : ০২ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইসি থেকে সুখবর পেলেন বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু

নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানিতে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা–সোনাগাজী) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানি শেষে সিদ্ধান্তটি দেওয়া হয়।

আপিল শুনানি গ্রহণ করেন- প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ফুল কমিশন। এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানেরশীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো বাধা থাকল না এই শিল্পপতির।

advertisement

এর আগে একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক গত ৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। 

আপিলে অভিযোগ করা হয়, আবদুল আউয়াল মিন্টু মার্কিন নাগরিকত্ব প্রত্যাহার না করেই নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য গোপন করেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানানো হয়।

advertisement

আপিলে ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হককেও বিবাদী করা হয়। আপিলে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার পরও মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

ইসিতে আপিল শুনানিতেও মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হওয়ায় দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

advertisement

দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, ইসির রায়ের মাধ্যমে আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সত্যের জয় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী স্বস্তিবোধ করছে এবং ধানেরশীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে।

সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সভাপতি খুরশিদ আলম ভূঁঞা বলেন, মিন্টুকে জয়ী করতে দলমত নির্বিশেষে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘দল যার যার, মিন্টু ও ধানেরশীষ সবার’—এই মনোভাব নিয়েই মানুষ এগোচ্ছে। 

তার মতে, মিন্টু প্রার্থী হওয়ায় আসনটিতে ভোটের হিসাব ওলটপালট হয়ে গেছে এবং আওয়ামী লীগের ভোটও ধানেরশীষের দিকে ঝুঁকছে। বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলায় এর আগে কোনো দল থেকেই হেভিওয়েট প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, যা এবার বিএনপির জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব শঙ্কার মধ্যেও মিন্টু ও মানিক একই উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় প্রথমবারের মতো দাগনভূঞা থেকে সংসদ সদস্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে এ আসনে ফেনী সদর, সোনাগাজী, সেনবাগ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কখনো দাগনভূঞা থেকে এমপি নির্বাচিত হননি। 

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে আবুল বাসার, ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে সাংবাদিক ফেরদৌস আহমেদ কৌরেশী, ২০১৮ সালে আকবর হোসেন, ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি থেকে রিন্টু আনোয়ার এবং ১৯৭০, ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জামায়াত থেকে মকবুল আহমদ নির্বাচন করলেও কেউ এমপি হতে পারেননি। 

প্রতিবারই দাগনভূঞা থেকে একাধিক প্রার্থী থাকলেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন অন্য উপজেলা থেকে। এবার প্রথমবারের মতো বিএনপি বা জামায়াত—যিনিই বিজয়ী হন, দাগনভূঞা থেকেই এমপি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ঘিরে রয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। ভোটারদের মতে, মিন্টু ও মানিকের মধ্যে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ফেনী-৩ আসনে মোট প্রার্থী ৯ জন। তারা হলেন— বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, জামায়াতের ফখরুদ্দিন মানিক, জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফ উদ্দিন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আবু নাছের, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর আবদুল মালেক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের এডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের হাসান আহমেদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আলী।

এই আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ১১ জন। এর মধ্যে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করেন। আসনটিতে মোট ভোটার পাঁচ লাখ তিন হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ জন এবং নারী ভোটার দুই লাখ ৪৩ হাজার ২৮৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৬১টি।

 

  • সর্বশেষ