রাজশাহীর বাঘায় জুসি বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর তাঁর স্বামী জহুরুল ইসলাম (৩৫) বলেন, ‘আমার আগে-পিছে কিছু নেই, আমি আজ থেকে মুক্ত।’
আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার আড়ানী পৌরসভার খোর্দ্দবাউসা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। জহুরুল ইসলাম খোর্দ্দবাউসা গ্রামের ইনছার আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিস্তির টাকা নিতে এনজিওর লোক আজ জহুরুলের বাড়িতে এসেছিলেন। টাকা দিতে না পারায় জহুরুল ও জুসি বেগমের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জহুরুল উত্তেজিত হয়ে হাঁসুয়া দিয়ে জুসির গলায় কোপ দেন। এতে গলা কেটে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর জহুরুল ইসলাম রক্তমাখা হাঁসুয়া হাতে নিয়ে খোর্দ্দবাউসা স্কুল মোড়ের রফিকুল ইসলামের চায়ের দোকানে যান। সেখানে গিয়ে বলেন, ‘আজ থেকে আমি স্বাধীন, আমার আগে-পিছে কোনো কিছু নেই।’ তখন স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে জহুরুল সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে জহুরুল ইসলামের ভাই রুহুল হোসেন বলেন, ‘তাঁদের সংসারে আর্থিক অনটন ছিল। কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছে বলেও শুনেছি। মাঝেমধ্যেই এনজিওর লোক বাড়িতে আসে। তাঁদের দেড় বছরের ও সাত বছরের দুটি সন্তান রয়েছে। আজ জহুরুল তাঁর স্ত্রীকে এভাবে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করবে, তা ভাবতে পারিনি।’
থানার পরিদর্শক সুপ্রভাত মণ্ডল বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।