ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দুই বহিরাগতকে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় আটকের একটি ভিডিও শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক এজিএস ইব্রাহিম খলিলের কক্ষ থেকে গত ২৭ জুলাই বিকাল তিনটার দিকে ধারণ করা হয় বলে জানা গেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, পাঞ্জাবি পরিহিত দাড়িওয়ালা ২ যুবককে ভিডিওধারণকারী আরাফাত ইউসুফ রুমেলের কাছে ক্ষমা চাইতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে হল সংসদের এজিএস ইব্রাহিম খলিলকে দেখা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই দুই যুবকের নাম মো. ফারহান ও মো. আরমান। তাদের দুজনের বাড়িই নোয়াখালীর সদর উপজেলায়। ফারহানের বাড়ি ব্রহ্মপুর এবং আরমানের বাড়ি ডানামিয়ার বাজার এলাকায়। তারা দুজনেই নোয়াখালীর তারা দুজনেই মাদরাসা শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত ফারহান এজিএস ইব্রাহিম খলিলের মায়ের মামাতো ভাই এবং আরমান ফারহানের বন্ধু বলে জানা গেছে।
বর্তমানে এজিএস ইব্রাহিম খলিল শাহবাগ থানায় অভিযুক্ত ফারহান ও আরমানের বিরুদ্ধে একটি জিডি দায়ের করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই কপিতে তিনি লিখেছেন, ‘গত ২৭ জুলাই তারিখে আমার মায়ের মামাতো ভাই ঘটনাস্থল আমার হলে আসে এবং আমার হলে অবস্থান করার জন্য আমাকে অনুরোধ করে। আমি অত্যন্ত সরল মনে তাকে আমার হল রুমে অবস্থান করতে অনুমতি প্রদান করি। এরপর ১ নম্বর বিবাদী (ফারহান) তার বন্ধু ২ নম্বর বিবাদীকে আমার রুমে নিয়ে আসে। আমি তখন ২ নম্বর বিবাদীকে (আরমান) আমার রুমে রাখতে অস্বীকৃতি প্রদান করি রুমে জায়গা না থাকার কারণে। তবুও তারা আমার রুমে অবস্থান করে। এরপর ২৭ জুলাই সকালে আমি ক্লাসে চলে যাই। সেখান থেকে এসে আমার বন্ধুদের সঙ্গে মাওয়াঘাট ঘুরতে যাই। এই সময়ের মধ্যে বিবাদীরা সমকামিতার মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হয় বলে সামাজিকমাধ্যমে জেনেছি, যার বিষয়ে আমি পুরোপুরি অজ্ঞাত ছিলাম। আমার রুমমেট ১ নম্বর সাক্ষী (ইউসুফ আরেফিন রুমেল) তাদেরকে দেখতে পায় এবং উক্ত ঘটনার ভিডিওধারণ করে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমি ১ আগস্ট একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে জানতে পারি। আমি উক্ত ঘটনার বিষয়ে পূর্বে কিছুই জানতাম না। বিবাদীদের এমন কর্মকাণ্ডে আমার হলের সিট সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং ভিডিওর মাধ্যমে আমার মানহানি চলমান। এতে আমার কোনো অপরাধ ছিল না। এমতাবস্থায় বিবাদীদের এমন কর্মকাণ্ডে আমি সর্বদা নিরাপত্তাহীনতা, মানহানি হচ্ছে বিধায় উক্ত ঘটনার বিষয়ে এবং আমার নিরাপত্তা ও মানহানি রক্ষার জন্য জিডি দায়ের করলাম।’
উক্ত বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ থাকলে আমি আইনকে সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত থাকব।
ভিডিওটিধারণকারী রুমেল এজিএস ইব্রাহিম খলিলের রুমমেট বলে জানা গেছে। তবে ২৭ জুলাইয়ের ঘটনার ভিডিও পাঁচদিন পর কেন প্রকাশ করা হলো এবং ঘটনার সময় হল প্রশাসন বা হল সংসদকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে চাই না।’
এদিকে আজ রোববার বিকালে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে হল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সঙ্গে আলোচনায় বসে হল ছাত্রসংসদ। আলোচনা চলাকালীন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জোর করে আলোচনা পক্ষে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে হল সংসদ ও শিবির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হাতাহাতি হয়। এরপরই হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
সদ্য পদত্যাগকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া আজ বিকেলে কালবেলাকে বলেন, ‘অভিযুক্ত এজিএসের সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহিরাগত অভিযুক্তদের হলে হাজির হতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উৎস: কালবেলা।