শিরোনাম
◈ হরমুজ প্রণালিতে মাইন শনাক্তে ইরান বিপাকে, সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের ◈ অভিন্ন ভবিষ্যৎ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এনডিটিভিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বার্তা ◈ কোন শিল্পপতিকে বাঁচাতে হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয়, অমিত শাহকে প্রশ্ন অভিষেকের! (ভিডিও) ◈ দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত ১০ ◈ ১৪ এপ্রিল ১০ উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ◈ যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি: কার কী শর্ত, কোথায় অনিশ্চয়তা? ◈ বাগেরহাটে দিঘিতে কুমিরের শিকার কুকুর, প্রত্যক্ষদর্শীরা যা জানালেন ◈ চাকরি প্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর আসছে! ◈ এক মাসে ৫৩২ মৃত্যু, থামছে না সড়ক দুর্ঘটনার মিছিল ◈ যেসব শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি সহায়তা পাবেন ৬ হাজার টাকা, আবেদন করবেন যেভাবে

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:৫২ দুপুর
আপডেট : ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘ঢাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীর জুস পান’—ছবিটির বিষয়ে যা জানা গেল

অনশনরত শিক্ষার্থীর জুস পানের ভাইরাল ছবি

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশনে বসেছেন তিন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনের লুকিয়ে জুস খাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। 

ফেসবুকের বিভিন্ন একাউন্ট থেকে দাবি করা হচ্ছে, অনশনরত অবস্থায় লুকিয়ে জুস পান করছেন ওই শিক্ষার্থী। 

শনিবার (১১ এপ্রিল) রিউমার স্ক্যানার টিম তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, ঢাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীর লুকিয়ে জুস পানের দৃশ্য দাবিতে ছড়ানো ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি।

অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা হলেন— ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সাকিবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের তিন দাবি হলো—

১. গণভোট নিয়ে নাটকীয়তা বন্ধ করে গণভোটে উল্লিখিত বিষয়গুলো সংসদে উত্থাপন ও বাস্তবায়ন করা

২. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা

৩. গণভোট ও জুলাই সনদে উল্লিখিত বিষয়সমূহ বাস্তবায়নে পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রকাশ করা।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধে করা অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন গঠনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশসহ ১৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন বা অননুমোদন কোনোটাই করেনি জাতীয় সংসদ। ফলে এই অধ্যাদেশগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে এই ১৩ অধ্যাদেশও ছিল। অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের শেষ সময় ছিল শুক্রবার। এ সময়ের মধ্যে এগুলো অনুমোদন বা অননুমোদনে কোনো বিল সংসদে আনা হয়নি।

সংসদ না থাকা অবস্থায় জারি করা অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করতে হয়। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে তা হয় পাশ করতে হয়, নইলে প্রয়োজনে হেফাজতকরণব্যবস্থা রেখে রহিতকরণ বিল আনতে হয়। হেফাজতকরণ হলো অধ্যাদেশের অধীনে নেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখা। সংসদে পাশ অথবা রহিত করা না হলে অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন, অর্থাৎ গত ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। যদিও বিএনপির সংসদ সদস্যরা গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১–দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেখানে আদেশটি এবং জুলাই সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাব নিয়ে গণভোট আয়োজনের কথা বলা হয়। এরপর গণভোট আয়োজনে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ জারি হয়। বিএনপি বলে আসছিল সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, সংবিধান সংশোধনের আদেশ নয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ৩১ মার্চ সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-কে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অন্তহীন প্রতারণার দলিল’ ও ‘জাতীয় প্রতারণা’ আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এই আদেশের কোনো আইনি বৈধতা নেই এবং এটি সূচনা থেকেই অবৈধ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়