শিরোনাম
◈ দেবিদ্বারে হাসনাত আবদুল্লাহর ব্যানার পুড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা ◈ ঢাকায় বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা: আবহাওয়া শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস ◈ সাত সকালে কেঁপে উঠল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ◈ গণভোটের সভায় তোলপাড়: ১৬১ জন ‘ফ্যাসিস্ট শিক্ষকের’ নাম ঘোষণা করলেন রাকসু জিএস আম্মার ◈ বৈধ ভিসা ও টিকিট থাকলেও ফ্লাইটে উঠতে বাধা: ই-ভিসা জটিলতায় বিপাকে যুক্তরাজ্যগামী বাংলা‌দেশি যাত্রীরা ◈ নির্বাচিত সরকারের সামনে পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ দেখছে ক্রাইসিস গ্রুপ ◈ ভারতীয় পণ্যের শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পকে মোদির ধন্যবাদ ◈ স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান (ভিডিও) ◈ সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকসহ ৮ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ◈ কা‌রো হুকু‌ম পালন না ক‌রে আইসিসিকে নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান শহীদ আফ্রিদির

প্রকাশিত : ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:০৪ সকাল
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গণভোটের সভায় তোলপাড়: ১৬১ জন ‘ফ্যাসিস্ট শিক্ষকের’ নাম ঘোষণা করলেন রাকসু জিএস আম্মার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণভোটবিষয়ক মতবিনিময় সভায় হঠাৎ ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন ‘ফ্যাসিস্ট শিক্ষকের’ নাম ঘোষণা করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। অনুষ্ঠানে ‘আওয়ামীপন্থী শিক্ষক’ বক্তব্য দেওয়ায় এবং উপস্থিত থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ আয়োজনে গণভোটবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার সিনেট ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৩টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণভোটবিষয়ক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা। তাঁর বক্তব্যের পরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি কিছু কাগজ হাতে মঞ্চের সামনে এসে সঞ্চালনাকারী রেজিস্ট্রার ইফতিখারুল আলমের কাছে বক্তব্য দেওয়ার জন্য এক মিনিট সময় চেয়ে অনুরোধ জানান। তবে সঞ্চালক তাঁর অনুরোধ ফিরিয়ে দেন। এরপর অনুষ্ঠানের সভাপতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীবের কাছে অনুরোধ করেন আম্মার। পরে উপাচার্য তাঁকে কথা বলতে সম্মতি দেন।

এরপর আম্মার তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এখানে এমনও মানুষ বসে আছে, যারা জুলাইয়ে নীরব ছিল। এখানে এমনও মানুষ বসে আছে, যারা আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ন্যারেটিভ উৎপাদন করেছে। এর মধ্যে পুন্ড্র ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আছে।’ তিনি তাঁর হাতে থাকা কাগজ থেকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বিরোধিতাকারী কয়েকজন শিক্ষকের নাম প্রকাশ করতে চান। এ সময় সঞ্চালক মঞ্চ থেকে তাঁকে নিষেধ করেন। তবে আম্মার না থেমে সাবেক উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তারসহ কয়েকজন শিক্ষকের নাম ঘোষণা করতে থাকেন। একপর্যায়ে সঞ্চালক চেয়ার থেকে উঠে এসে আম্মারকে থামার জন্য অনুরোধ করে বলেন, ‘আম্মার, অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।’

আম্মার উত্তরে বলেন, ‘অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য তো তখনই নষ্ট হয়েছে, যখন ফ্যাসিস্টগুলাকে সামনে বসাইয়া গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে। এখানে ১৬১ জন শিক্ষকের নাম আছে। এটা আমাকে বলতে দিতে হবে। না হলে জুলাই আহত ও শহীদ পরিবারের সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যাইতে হবে।’ পরে রাবি উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব চেয়ার ছেড়ে এসে আম্মারকে থামান এবং অনুষ্ঠান শেষে তাঁর কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য বলেন। উপাচার্যের আশ্বাসে অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নাম প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে সেখান থেকে চলে যান আম্মার।

১৬১ শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে আম্মারের কর্মসূচি

মতবিনিময় সভা শেষে সেখানে আবারও উপস্থিত হন সালাহউদ্দিন আম্মার। ওই মঞ্চেই তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি ১৬১ শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেন। তালিকায় নাম থাকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে অর্থায়ন, বয়ান তৈরি, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান ও ছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলার মদদ দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন আম্মার। এ ছাড়া আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সভার বাইরে অবস্থান করবেন বলে কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

আম্মারের তালিকায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার, সহ-উপাচার্য সুলতান-উল ইসলাম ও হুমায়ুন কবীর, কোষাধ্যক্ষ অবায়দুর রহমান প্রামাণিক, প্রক্টর আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, আইসিটি সেন্টারের সাবেক পরিচালক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা, শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সরকার প্রমুখ।

কর্মসূচি ঘোষণা শেষে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের একটি সভা রয়েছে। ওই সভায় এই ১৬১ জন শিক্ষকের বিচারের কোনো সিদ্ধান্ত না এলে আমরা সভা শেষ হতে দেব না। সব শিক্ষার্থীর প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, আপনারা আমার সঙ্গে সংহতি জানাবেন। শিক্ষার্থীরা না থাকলেও আমার একা দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও আমি অবস্থান করব।’

সূত্র: প্রথম আলো

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়