শিরোনাম
◈ প‌্যা‌রি‌সে বিক্ষোভের উত্তাপ, সোমবার রাতে পিএসজির ম্যাচ ◈ ইসলামবিদ্বেষের ছায়ায় ইউরোপ, কতটা নিরাপদ মুসলিমরা? : আল-জাজিরার বিশ্লেষণ ◈ বাস-ট্রেনে হেডফোন ছাড়া গান শুনলে ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে কোন দেশে কত জরিমানা? ◈ প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় রাখার সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের: শামা ওবায়েদ ◈ বলপ্রয়োগ করলে ফ্যাসিবাদী, না করলে দুর্বল ভাবে মানুষ: আইজিপি ◈ মাদরাসায় বলাৎকার: কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার ◈ কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে ১০০ কোটি ডলারের নয়, ১০ কোটি ডলারে ক্যান কারখানা গড়ছে চীনা প্রতিষ্ঠান ◈ গাজীপুরে সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টন গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৮ ইউনিট ◈ যে কারণে বাতিল হতে পারে মার্কিন ভিসা, জানাল দূতাবাস ◈ ইতালিসহ ইউরোপে চাকরির সুযোগ: বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ পাবেন ৩ হাজার বাংলাদেশি, আবেদন করবেন যেভাবে

প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট, ২০২২, ০৯:১৯ রাত
আপডেট : ৩১ আগস্ট, ২০২২, ০৯:১৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পোশাক খাতে নতুন মজুরি বোর্ড দাবি, মালিক-শ্রমিকদের মধ্যপন্থা চান বাণিজ্যমন্ত্রী 

পোশাক খাত

মনজুর এ আজিজ : নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দামের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা এখন আট ঘণ্টার জায়গায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করছেন বলে একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। এই অতিরিক্ত শ্রমের ধকল সইতে না পেরে মৃত্যুও হয়েছে বলে দাবি করেছেন শ্রমিক নেতা। এই পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেঁচে থাকার মতো ব্যয় নির্বাহে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। এই দাবির জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, তারা শ্রমিকদের ভালো চান। তাদের যেমন অর্ধাহারে দেখতে চান না, আবার মালিকরাও ব্যয় সামলাতে না পেরে ছিটকে পড়ুক, তাও দেখতে চান না। এ ক্ষেত্রে একটি মধ্যপন্থা খুঁজে বের করার কথা বলেছেন তিনি।

বুধবার রাজধানীর ব্রাক সেন্টারে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি আয়োজিত ‘পোশাক খাতে সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি: শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিত হচ্ছে কি?’ বিষয়ের এক কর্মশালায় এসব কথা বলা হয়। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে বিভিন্ন স্তরের শ্রমিক নেতা, মালিক সংগঠন ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য পরিবারের মতো টিসিবির পণ্য যেন পোশাক শ্রমিকেরাও পায় এ বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকদের স্বার্থ যেমন দেখতে হবে তেমনই কারখানাও টিকিয়ে রাখতে হবে। মনে হচ্ছে পোশাক কারখানায় নারী শ্রমিকদের হার কমেছে। শ্রমিকদের জীবনমানও উন্নয়ন করা দরকার। কমপ্লায়েন্স রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের রেশন দেওয়া যায় কিনা সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

তিনি বলেন, আগের তুলনায় পোশাক খাতের শ্রমিকরা ভালো আছেন।  শ্রমিকদের আয়, পোশাক-আশাক, চলনেবলনে ও দক্ষতায় আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। এসব কারণে পোশাক খাতেও সমৃদ্ধি বেড়েছে। শ্রমিকের বর্তমান সংকট মালিক, শ্রমিক ও সরকার সম্মিলিতভাবে দূর করবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদেরকে একটি ব্যালেন্স ওয়ে আউট বের করতে হবে। সমস্যা থাকবে। এর জন্য আমাদের সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।

পোশাক খাতে ট্রেড ইউনিয়ন আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর জন্য ইউনিয়নের নেতৃত্বকে শিক্ষিত হওয়া দরকার।

সিপিডির গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশের ২৯ শতাংশ কারখানা ঘুস-দুর্নীতির শিকার হয়েছে। ৫১টি কারখানা নিয়ে এক জরিপে এ তথ্য বের হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকরা চরম সংকটে রয়েছে দাবি করে গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ বলেন, যে আয় আছে তা দিয়ে সে (শ্রমিক) চলতে পারছে না। বাবা-মা-ভাইবোনকে সে খাওয়াতে পারছে না।

সরকার অভিভাবক হলেও সংকট সমাধানের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিষয়টি যদি সরকার গভীরভাবে বিবেচনা না করে, মালিকরা যদি আমলে না নেয়, তাহলে পোশাক খাতে শ্রমিকরা আকস্মিক বিক্ষুব্ধ হয়ে যেতে পারে। 

শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আক্তার দাবি করেন, দ্রব্যমূল্য বেড়েছে, শ্রমিকদের বেঁচে থাকার কষ্ট আরও বেড়েছে। অথচ বর্তমান মজুরি স্ট্যান্ডার্ডে থাকা তো দূরের কথা, মিনিমাম ওয়েজ স্ট্যান্ডার্ডেও বেঁচে থাকার ধারে কাছে নেই। 

কর্মশালায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, করোনা কেটে যাওয়ার পর পোশাক খাতের শ্রমিকের কাজ করার হার ২০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু আশঙ্কাজনক হলো, দেশে যে নারী শ্রমিক একটা সময় ৮৫ শতাংশ ছিল, সেটি ধীরে ধীরে কমে ৬৮ শতাংশে নেমে এসেছে। কেন এই নারী শ্রমিকের আধিক্য পোশাক খাতে কমে এলো, তা নিয়ে গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি জানান, শ্রমিকের আয়ের তুলনায় ব্যয় সাড়ে ৯ শতাংশ বেড়েছে। ব্যয় সামলাতে তারা এখন আগের থেকে বেশি কাজ করছে। এতে ৮৪ শতাংশ কারখানায় অতিরিক্ত কাজের চাপের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পোশাক কারখানাগুলোতে গড়ে ৪০ জন করে শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে বলেও জানান গোলাম মোয়াজ্জেম। 
নিট পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাতেম বলেন, আমরা আসলে সমস্যাগুলো আগে দেখি যাতে সমাধানটা বের করা যায়। সে কারণে সমস্যাগুলোই সবার সামনে আগে আসে। ট্রেড ইউনিয়নে শ্রমিকরা আগ্রহী নন বলেও দাবি করেন তিনি। 

বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, দেশে এখন ১১৩৬ ইউনিয়ন আছে। ফলে ইউনিয়ন করতে দেয়া হচ্ছে না-এ দাবি সঠিক নয়। নারী শ্রমিকের ঘাটতির পেছনে নারীর কাজে দক্ষতার ঘাটতিকেই দায়ী করেন তিনি। নারীদের আরও দক্ষ হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

  • সর্বশেষ