শিরোনাম
◈ কক্সবাজারে আবারও হোটেলে আগুন, নিরাপদে বেরিয়ে এলেন ৩ শতাধিক পর্যটক ◈ বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি ১৫ দেশের ৪০৭ নাগরিক, সবচেয়ে বেশি ভারতীয় ◈ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেল‌তে ভারতে গে‌লো বাংলা‌দেশ হকি দল ◈ ভারত থেকে আসা ১৩৫ টন চালে মিলল বিষাক্ত ও ক্ষতিকর উপাদান ◈ কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশির ভিসা আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা ◈ এনসিপির ‘সুপার সিক্সটিন’ কী, কারা আছেন এই তালিকায় ◈ সৌদি আরবে হুতি হামলার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের ◈ দেশে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় এবার পুলিশের বিশেষ ইউনিট ◈ শিক্ষককে থাপ্পড় দেওয়া সেই রুমির বার্তা, ‘আমাকে হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখো না’ ◈ অরুণাচল সীমান্তে ভারত-চীন সেনাদের মুখোমুখি অবস্থান, নতুন করে উত্তেজনা

প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৫৩ বিকাল
আপডেট : ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:২৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বৈশ্বিক ঋণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল : শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশের অবস্থান কত?

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, আবাসন সংকট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেট ঘাটতির প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই কিছু জায়গায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

এই অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু এখন ফ্রান্স। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত শনিবার দেশজুড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।

এসব বিক্ষোভের জেরে ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট সামলানোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বছরের পর বছর বিপুল ঋণ নেওয়ায় দেশগুলো এখন তীব্র ঋণভারে জর্জরিত। 

একই সঙ্গে বাড়ছে এসব ঋণের সুদ পরিশোধের খরচও। ফ্রান্সে ঋণ নেওয়ার খরচ ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঋণের সুদ মেটাতে সরকারের বাড়তি ব্যয় হওয়ায় স্কুল, হাসপাতাল ও পেনশনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বৈশ্বিক ঋণের চিত্র, সরকারগুলোর ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং ফ্রান্সসহ শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সরকারি ঋণ যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির ঋণের পরিমাণ ৪১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির মোট জিডিপির ১২৭ শতাংশ। 

বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা মার্কিন ডলারে ঋণ নিতে পারায় যুক্তরাষ্ট্র সুবিধা পায়। এতে দেশটির ঋণের প্রতি বিশ্বজুড়ে চাহিদা বজায় থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রেরও সীমাহীন ঋণ নেওয়ার সুযোগ নেই।

সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে এরপর রয়েছে চীন। দেশটির ঋণ ২২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১০৪ শতাংশ। 

জাপানের ঋণ ৮.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে জাপানের ঋণের অনুপাত সবচেয়ে বেশি, জিডিপির ১৯৯ শতাংশ। 

যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণ ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ১০২ শতাংশ।

বিশ্বে সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটির ঋণ ৪.২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১১৮.৫ শতাংশ। 

ইতালির সরকারি ঋণ ৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও দেশটির অর্থনীতির তুলনায় ঋণের বোঝা বেশি। ইতালির ঋণ জিডিপির ১৩৮ শতাংশ। 

অন্যদিকে জার্মানির সরকারি ঋণ ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ৬৫ শতাংশ।

বৈশ্বিক ঋণ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে। 

২০১০ সালে এ ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ গত দেড় দশকে দেশে ঋণ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। তবে উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের ঋণ ও জিডিপির অনুপাত এখনো বেশ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে দেশের ঋণ মোট জিডিপির ৪০ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্রান্সের সরকারি ঋণ বেড়ে জিডিপির ১২১.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে দেশটির সরকারি অর্থব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

সরকার যেভাবে ঋণ নেয়

সাধারণ মানুষ ব্যাংকের দ্বারস্থ হলেও সরকার মূলত বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করে। এর বিনিময়ে সরকার বন্ড ক্রেতাদের নির্দিষ্ট হারে সুদ দেয় এবং নির্ধারিত মেয়াদে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

যেমন—১০ বছর মেয়াদি বন্ডের অর্থ সরকার ১০ বছর পর ফেরত দেয়। এ বন্ডের 'ইল্ড' বা মুনাফার হার দিয়ে বোঝা যায় বিনিয়োগকারীরা ঋণ দিয়ে কতটা আয় করছেন। মূলত একটি দেশ তার ঋণ সামাল দিতে পারবে কি না, সে বিষয়ে আর্থিক বাজারের আস্থা পরিমাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক এটি।

বিনিয়োগকারী যদি ১০০ ইউরো দিয়ে ১০ বছর মেয়াদি বন্ড কেনেন এবং সুদের হার ৫ শতাংশ হয়, তবে তিনি প্রতিবছর ৫ ইউরো করে ১০ বছরে ৫০ ইউরো সুদ পাবেন। মেয়াদ শেষে তিনি মূল ১০০ ইউরোও ফেরত পাবেন।

ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে সংকট কোথায়?

বন্ডের দাম কমলে এর 'ইল্ড' বা মুনাফার হার বাড়ে। ফলে সরকারের জন্য নতুন ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। কোনো পরিবারের গৃহঋণের সুদ বাড়লে যেমন সংসার খরচে টান পড়ে, সরকারের ক্ষেত্রেও তাই হয়। সুদ পরিশোধে তহবিল চলে যাওয়ায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে টান পড়ে।

বর্তমানে ইউরোজোনে ফ্রান্সকে ১০ বছর মেয়াদি ঋণের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে জার্মানির ক্ষেত্রে এই হার ৩.৪১ শতাংশ। এমনকি ইতালি ও গ্রিসের চেয়েও ফ্রান্সকে এখন বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে। ইউরোজোনের বাইরে শুধু যুক্তরাজ্যই বর্তমানে ফ্রান্সের চেয়ে বেশি সুদে ঋণ নিচ্ছে।

সুদ পরিশোধেই খরচ ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার

ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বৈশ্বিক ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এতে সরকার, ব্যক্তি ও করপোরেট খাতের ঋণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মাথাপিছু হিসাবে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের ওপর ঋণের বোঝা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার ডলার।

এই বিপুল ঋণের সুদ পরিশোধে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। গত এক বছরে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোকে সরকারি বন্ডের সুদ বাবদ ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। 

এই অর্থ বিশ্বের সামরিক খাতে ব্যয় হওয়া ৩.১ ট্রিলিয়ন ডলার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যয় হওয়া ২.৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে ব্যয় হওয়া ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি।

ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়লে স্কুল, হাসপাতাল ও পেনশনের মতো জনসেবামূলক খাতে সরকারের হাতে অর্থ কমে যায়। এই খরচ মেটাতে সরকারকে কর বাড়াতে বা অন্যান্য খাতে ব্যয় কমাতে হতে পারে। 

এ ছাড়া সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে গৃহঋণ, গাড়ি কেনার ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও বেড়ে যেতে পারে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 

  • সর্বশেষ