শিরোনাম
◈ একাদশে ভর্তির শেষ সুযোগ, আবেদন করা যাবে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ◈ চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি, তবু কমছে না ফলের দাম ◈ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ, আসছে অধ্যাদেশ ◈ ‘ফ্যামিলি কার্ডের কারণে তালাক বন্ধ হয়েছে’: চিফ হুইপ ◈ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশ, বাংলাদেশিদের নিয়ে কঠোর হচ্ছে ইইউ ◈ ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৭২ জন ◈ এলন মাস্কের টেসলাকে চ্যালেঞ্জ, রোডস্টারের ওপর দিয়ে উড়ল আলেফের উড়ন্ত গাড়ি! ◈ অনুমতি ছাড়াই অন্যের ওয়ালেট থেকে পরীক্ষামূলক ইথেরিয়াম খরচ করল ওপেনএআইয়ের গবেষণা মডেল ◈ নারী শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্ব, রিবা আন্তর্জাতিক স্থাপত্য পুরস্কারে বিশ্বের সেরা নতুন ভবন রংপুরের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি ◈ ইনানী রিসোর্টে আগুন: ফজরের পর সৈকতে গিয়ে বাঁচলেন দুই বান্ধবী, প্রাণ গেল মুক্তার

প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:২৬ সকাল
আপডেট : ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:২৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি, তবু কমছে না ফলের দাম

চাহিদার চেয়ে বেশি ফল আমদানি হলেও দেশের বাজারে দাম বেশ চড়া। গেল বছরের চেয়ে সব ধরনের ফল কেজিতে অন্তত ১০০ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলের দাম বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীরা উচ্চ শুল্কহার ও খরচ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন।

তবে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) দাবি, সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না আমদানি করা ফলের দাম। বিদেশি ফলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় দেশি ফলের বাজারেও নিয়ন্ত্রণ নেই।

বাংলাদেশে বিদেশি ফলের বাৎসরিক চাহিদা পাঁচ লাখ ২০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ ৪০ হাজার টনের মধ্যে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আপেল, আঙ্গুর, মাল্টা, কমলাসহ বিদেশি ফল আমদানির পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার টন, যা গড়ে প্রতি মাসে ৪৫ হাজার টনের কাছাকাছি।

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ফল আমদানির পরিমাণ চার লাখ ১২ হাজার টন। ৯ মাসে স্বাভাবিক চাহিদা ছিল সর্বোচ্চ চার লাখ পাঁচ হাজার টন।

Advertisement

চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাইকারি ফলবাজার ফলমণ্ডী। এখান থেকেই ফলের চালান পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। গত বৃহস্পতিবার এ বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকান ও গুদাম সব ধরনের বিদেশি ফলে ভর্তি। ধুম বেচাকেনা চলছে সবগুলো দোকানে। এদিন সাড়ে ছয় কেজির এক ক্যারেট আঙ্গুর বিক্রি হয়েছে প্রকারভেদে ১৯০০-২১০০ টাকার মধ্যে। ২৪ কেজির এক ক্যারেট আপেল বিক্রি হয়েছে ৫৩০০-৫৫০০ টাকায়। ২২০ পিচের এক ক্যারেট কমলা বিক্রি হয়েছে চার হাজার টাকায়। ১৫ কেজির এক ক্যারেট মাল্টার দাম ছিল ৪৬০০ টাকা। পাইকারিতে ওইদিন বড় দানার প্রতিকেজি আনার বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকা।

ফলমণ্ডী পাইকারি বাজার থেকে কয়েকশ মিটার দূরে সবচেয়ে সস্তা খুচরা বাজার রেয়াজউদ্দিন বাজার। প্রতিটি ফল এখানে বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি অন্তত ৫০ টাকা বেশি দরে। দুই কিলোমিটার দূরে উচ্চবিত্তদের বাজার কাজির দেউড়ি কাঁচাবাজার। ওই বাজারের বড় একটি অংশজুড়ে ফলের দোকান। ফলমণ্ডীর পাইকারি বাজারে যে আঙ্গুর বিক্রি হয়েছে ৩২৪ টাকা কেজি দরে; কাজির দেউড়িতে তার দাম ৫০০ টাকা। ফলমণ্ডীতে ২৩০ টাকা কেজির আপেল কাজির দেউড়িতে বিক্রি হয়েছে ৩৮০ টাকায়। এছাড়া ৩০০ টাকার মাল্টা ৩৭০ টাকা এবং ২৮০ টাকার কমলা বিক্রি হয়েছে ৩৬০ টাকায়।

একই চিত্র দুই নম্বর গেট কর্ণফুলী কাঁচাবাজারের সামনের ফলের দোকানগুলোতে। এখানকার ফল বিক্রেতা আবুল হাশেম জানান, ফলমণ্ডী থেকে ফল কিনে খরচ যুক্ত করে ১৫-২০ শতাংশ লাভ ধরে দাম নির্ধারণ করেন তারা। কিন্তু এখন ১০ শতাংশ লাভ হিসাব করে দাম নির্ধারণ করতেও বিবেকে বাধে। কারণ, পাইকারি বাজারেই ফলের দাম বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। এতে বিক্রির ওপরও প্রভাব পড়ছে। অনেকেই দাম শুনে ফল না কিনে চলে যাচ্ছেন। দুই মাস আগেও ফলের দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল; এখন নেই। শিগগির দাম কমার কোনো সম্ভাবনাও নেই বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ সূত্র জানায়, আমদানি করা ফলের বড় অংশই আসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রেফার কনটেইনারে। এর মধ্যে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুধু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই ১,২০০ কোটি টাকা মূল্যের এক লাখ ৩৭ হাজার টন আপেল, ৯৫৬ কোটি টাকা মূল্যের এক লাখ সাত হাজার টন কমলা, ৭২৭ কোটি টাকা মূল্যের ৬৯ হাজার টন আঙ্গুর, ৫৭২ কোটি টাকা মূল্যের ৬৫ হাজার ৫৮৫ টন মেন্ডারিন এবং ৩৩৮ কোটি টাকা মূল্যের ৩৩ হাজার ৭৪০ টন অন্যান্য ফল আমদানি হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, আমদানি করা প্রতি কেজি ফলের ভিত্তিমূল্য ৮০ সেন্ট দাম ধরে ১২২ শতাংশ ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ হারে কাস্টম ডিউটি, ২০ শতাংশ হারে রেগুলেটরি ডিউটি, ৩০ শতাংশ হারে সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি, ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট, পাঁচ শতাংশ হারে এআইটিসহ সর্বমোট ১২১.৭-৭ শতাংশ টোটাল ট্যাক্স ইন্সিডেন্ট-টিটিআই আদায় করে কাস্টম হাউজ। অর্থাৎ, আমদানিকারক দেশ থেকে ১০০ টাকার ফল কিনে বাংলাদেশে আনতে আরো ১২২ টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। এর বাইরে জাহাজ ও রেফার বা ফ্রিজিং কনটেইনার ভাড়া যুক্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে ১০০ টাকার ফল বাংলাদেশে পৌঁছলে ২৪০ টাকার কাছাকাছি খরচ হচ্ছে। এটাও বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম জানান, ফলের দাম এখন থেকে নয়, ২০২৩ সাল থেকেই বাড়তি। কারণ, ওই সময় যে ফলে ট্যাক্স ছিল ৩০ টাকা, এখন তা ১১০ টাকা। যে ফলে ট্যাক্স ছিল ৪৫ টাকা, এখন তা ১৪৫ টাকা। জাহাজ ভাড়া-কনটেইনার ভাড়া সবই গত বছরের চেয়ে কয়েকশগুণ বাড়তি। খরচ বেশি হলে দাম বাড়বেÑএটাই স্বাভাবিক।

তিনি জানান, চীন থেকে যে ফল আসে, সেগুলোর দাম এখনো কম আছে। কিন্তু আফ্রিকা থেকে আসা ফলের দাম কিছুটা বেড়েছে। কারণ, যুদ্ধের কারণে ওই জাহাজগুলো রুট পরিবর্তন করে আসছে। যে জাহাজের ট্রানজিট পয়েন্ট ছিল সিঙ্গাপুর, সেই জাহাজ চলে গেছে মালয়েশিয়া। তাই সাপ্লাই চেইনে হঠাৎ করে ছন্দপতন ঘটেছে। আশা করছি এ মাসের শেষে বেশ কয়েকটি জাহাজ একসঙ্গে আসবে। তখন আবার সব ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাবে। অনেক আমদানিকারক লোকসানেও পড়বে। কারণ, এগুলো পচনশীল পণ্য। স্টক করে বিক্রি করার সুযোগ সীমিত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের ফল এসেছে বাংলাদেশে। যার মূল্য ৪,৯৬৫ কোটি টাকা। এসব ফল থেকে রাজস্ব এসেছিল ৫,৪৫৮ কোটি টাকা। বিপরীতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ৩,৭৯৯ কোটি টাকা মূল্যের চার লাখ ১২ হাজার টন আমদানি করা ফল এসেছে দেশে। এর থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪,৩০০ কোটি টাকা। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও মিসরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসব ফল আমদানি করা হয়।

সূত্র: আমার দেশ 

  • সর্বশেষ