শিরোনাম
◈ মিয়ানমারের সঙ্গে সীমিত বাণিজ্য শুরু, প্রাণ ফিরছে টেকনাফ স্থলবন্দরে ◈ অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি পুলিশের ◈ আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার সাফ চ‌্যা‌ম্পিয়নশীপ খেল‌তে আসছে  ◈ ফিফা সভাপ‌তি ক্ষমা চাইলেও উয়েফা এখ‌নো বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় ◈ আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে চ্যালেঞ্জ কোথায় ◈ রোববার চট্টগ্রাম যাবেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একাধিক কর্মসূচি ◈ সাকিবের দেশে ফেরার প্রশ্নে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী—‘আর কোনো সুযোগ নেই’ ◈ ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ◈ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী ◈ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত: রয়টার্সকে সাকিব

প্রকাশিত : ০৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:৫৮ রাত
আপডেট : ০৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের সঙ্গে সীমিত বাণিজ্য শুরু, প্রাণ ফিরছে টেকনাফ স্থলবন্দরে

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে আবারও ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। সীমিত পরিসরে মিয়ানমারের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হওয়ায় বন্দরজুড়ে বেড়েছে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কর্মব্যস্ততা। যদিও রপ্তানি কার্যক্রমে গতি এলেও আমদানি এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রায় এক বছর টেকনাফ স্থলবন্দরের সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের মে মাস থেকে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই কয়েকটি ট্রলার বন্দরে আসতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল হয়।

বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় বন্দরের ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কসংলগ্ন চায়ের দোকানসহ স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও।

তবে ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে রপ্তানির তুলনায় আমদানি অনেক কম। মিয়ানমার থেকে আমদানির পরিমাণ বাড়লে ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

টেকনাফ বন্দরের শ্রমিক আলী আজগর বলেন, দীর্ঘদিন বন্দর বন্ধ থাকায় অনেক শ্রমিক চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। এখন কাজ শুরু হওয়ায় নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে বন্দর পুরোপুরি সচল হলে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা আরও স্বাভাবিক হবে।

টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এহেতাশামুল হক বাহাদুর বলেন, বর্তমানে সীমিত পরিসরে সীমান্ত বাণিজ্য চলছে। মিয়ানমার থেকে প্রধানত কাঠ আমদানি হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে আলু, কোমল পানীয়, বোতলজাত পানি, প্লাস্টিকজাত পণ্য, বিস্কুটসহ বিভিন্ন দেশীয় পণ্য মিয়ানমারে রপ্তানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমদানির পরিমাণ চাহিদা অনুযায়ী বৃদ্ধি পেলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, চলতি বছরের মে মাসে বন্দর দিয়ে রপ্তানি আয় হয় ৩ লাখ ১০ হাজার ৮১২ মার্কিন ডলার। জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৫ দশমিক ১ মার্কিন ডলারে। ওই মাসে আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় হয় ২ কোটি ১৫ লাখ ১৪ হাজার ২৩১ টাকা ৯ পয়সা।

তিনি জানান, জুলাই মাসে আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ২৫ পয়সা। একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ১০ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৪ দশমিক ৬৮ মার্কিন ডলার।

মাহবুব আলম বলেন, বর্তমানে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানির তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ বেশি। তবে অতীতে আমদানি ও রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রেই বাণিজ্যের পরিমাণ এবং আয় আরও বেশি ছিল। সংশ্লিষ্টদের আশা, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে টেকনাফ স্থলবন্দর আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়