ইফতেখার আলম বিশাল, স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর একটি বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তা ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সন্দেহজনক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম ফারিনা আজিবা ঝিলিক (১৩)। তিনি রাজশাহী নগরের বুলনপুর এলাকার মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে নগরের সুফিয়ানের মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর বাবা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বিশেষ শাখা (সিটিএসবি)-তে কর্মরত একজন পুলিশ সদস্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। পরে শিক্ষার্থীটি গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনাস্থল ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম বলেন, নিহত শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে টিউবারকুলার মেনিনজাইটিস রোগে ভুগছিল এবং মাঝেমধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়ত। এমন পরিস্থিতিতে তার মা প্রায়ই বিদ্যালয়ে এসে তাকে বাসায় নিয়ে যেতেন। তিনি বলেন, ঘটনার আগে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়েছিল এবং শিক্ষার্থীটি তুলনামূলক ভালো ফলই করেছে। রোল নম্বর ৬১ হলেও সে পরীক্ষায় ৩০তম স্থান অর্জন করে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ঘটনার পর আরএমপিও একটি প্রতিবাদলিপি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিও এবং তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা।
আরএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫৭ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীটি বিদ্যালয়ের ভবনের উপরের তলায় যায়। ভবনে ওঠা এবং পরবর্তী পুরো ঘটনাই সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনেও সন্দেহজনক কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে শিক্ষার্থীটির দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে আরএমপি বলেছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।