শিরোনাম
◈ দখলকারী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন খাস জমি উদ্ধার করা হবে: ভূমিমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতের উদ্যোগ: স্থবির ৪০টির বেশি দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা ◈ যৌন হয়রানির অপরা‌ধে ৫ বছর নিষিদ্ধ গায়ানা ফুটবল কর্মকর্তা ইয়ান আলভেস ◈ সীমান্তে ভারতীয় ড্রোন পড়ে আতঙ্ক, বিজিবির হেফাজতে উদ্ধার করা হয়েছে ◈ টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে আটে বাংলাদেশ ◈ চীনের নেতৃত্বাধীন বাণিজ্যিক জোট আরসেপে যোগ দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ◈ সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩৮ অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর ◈ দেশের ইতিহাসে এত চমৎকার নির্বাচন আগে কখনো হয়নি: সেনাপ্রধান ◈ এক বছরের মধ্যেই সব ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ◈ শাপলা চত্বর মামলা: ৫৮ জন নিহত, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা

প্রকাশিত : ০৫ মে, ২০২৬, ০৯:৪৭ রাত
আপডেট : ০৬ মে, ২০২৬, ১২:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সরকারি ঋণের বোঝা ছাড়াল ২২ লাখ কোটি টাকা 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের অদক্ষতা ও নানা অপকর্মের ফলে বর্তমান সরকারের ওপর ঋণের বোঝা দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ কোটি টাকার বেশি, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট হিসাব অনুযায়ী স্পষ্ট হলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রবণতা হলো দেশি বা অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা।

সরকার বলছে, বিদেশি মুদ্রার ঝুঁকি কমাতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক বুলেটিন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই মোট ৩ লাখ কোটি টাকা নতুন ঋণ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের জুন শেষে সরকারি ঋণ ছিল ১৮.৯ লাখ কোটি টাকা। ওই সময়ের মাত্র এক মাস পরই অন্তর্বর্তী প্রশাসন দায়িত্ব নেয়। এর আগে ২০২২ সালের জুন শেষে এই ঋণ ছিল ১৩.৪৪ লাখ কোটি টাকা। অন্তর্বর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ ঋণ ১.৭০ লাখ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৫ লাখ কোটি টাকায়। একই সময়ে বিদেশি ঋণও ১.৪৭ লাখ কোটি টাকা বেড়ে ৯.৫৯ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে সরকারের মোট ঋণের মধ্যে ৫৭ শতাংশই দেশি উৎস থেকে নেওয়া, আর ৪৩ শতাংশ বিদেশি ঋণ। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে নির্ভরতা বাড়ানোর ফলে একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ তারল্য ব্যবহার হচ্ছে, অন্যদিকে বিনিময় হারজনিত ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সরকারের মোট ঋণ গ্রহণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২,৪২৮ কোটি টাকা বা ১৩ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে বিদেশি ঋণ ৫৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১০,১৩০ কোটি টাকায়। অন্যদিকে দেশি ঋণ ৭০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫২,২৯৮ কোটি টাকা। দেশি ঋণের মধ্যে একাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে ১৯,৪৭০ কোটি টাকা। অধিকাংশ দেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে সরকারি সিকিউরিটিজের মাধ্যমে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, সরকারের কৌশলে এখন দীর্ঘমেয়াদি ঋণের দিকে স্পষ্ট ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। একই সময়ে সুদ পরিশোধও বেড়েছে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সুদ বাবদ খরচ হয়েছে ৭১,২৫৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে দেশি ঋণের সুদ পরিশোধই দাঁড়িয়েছে ৬১,৮৬৬ কোটি টাকা, যা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, দেশি ঋণ বাড়লে সাধারণত বেসরকারি খাতে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য, সরকারি বন্ডের সুদের হার কমে যাওয়া এবং বেসরকারি ঋণের চাহিদা কম থাকায় একটি ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, এই অভ্যন্তরীণ তারল্য ব্যবহার করে সরকার আরও স্থিতিশীল ও স্বনির্ভর আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারছে, যা অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়