৪০ ধরনের সেবা পেতে টিআইএন বাধ্যতামূলক
দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন (Tax Identification Number)) ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী থাকলেও চলতি বছরে প্রায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)) তথ্য অনুযায়ী, টিআইএন মূলত করদাতাদের শনাক্তকরণের একটি ইউনিক নম্বর, যা আয়কর ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এনবিআরের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিআইএন নিবন্ধন করা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকে কেবল সেবা গ্রহণের জন্য টিআইএন নিলেও নিয়মিত কর রিটার্ন জমা দেন না, যা কর ব্যবস্থাপনায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
টিন সার্টিফিকেট করদাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হিসাবে কাজ করে এবং আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতার আয়, কর পরিশোধ ও আর্থিক তথ্য সহজে বিশ্লেষণ করতে পারে।
টিআইএন বা টিন সার্টিফিকেট ছাড়া বিভিন্ন কাজ বা সেবা নেওয়া যাবে না। প্রায় ৪০ ধরনের কাজে টিআইএন প্রয়োজন।
এর মধ্যে অন্যতম হলো-
- সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
- সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছ ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া বা পুনর্নিবন্ধন নিতে হলে টিআইএন লাগবে।
- সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা নির্দিষ্ট এলাকায় জমি বা ফ্ল্যাটের মালিক হলে টিআইএন থাকতে হবে। কারণ, টিআইএন ছাড়া এসব সম্পদ নিবন্ধন নেওয়া যাবে না।
- গাড়ির মালিকদের টিআইএন লাগবে।
- টিআইএন ছাড়া গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস নবায়ন- এসব হবে না।
- ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা এনবিআরের নিবন্ধনভুক্ত যেকোনো পেশাজীবীর সনদ নিতে টিআইএন লাগবে।
- যারা ঋণপত্র (এলসি) খোলেন বা ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট, তাদের টিআইএন লাগবে।
সরকারি বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দরপত্র জমা দিতে টিআইএন লাগে।
- টিআইএন ছাড়া ক্রেডিট কার্ড নেওয়া যাবে না। ক্রেডিট কার্ডধারীদের টিআইএন থাকতে হবে।
ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাবের মতো অভিজাত ক্লাবের সদস্য হতেও টিআইএন দরকার হবে। আবার ছেলেমেয়েদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে চাইলে অভিভাবকের টিআইএন লাগবে।
- ছোট-বড় ব্যবসা করতে টিআইএন লাগবে। যেমন মুঠোফোনের রিচার্জের ব্যবসা, মোবাইল ব্যাংকিং, পরিবেশক এজেন্সি, বিভিন্ন ধরনের পরামর্শক, ক্যাটারিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জনবল সরবরাহ, সিকিউরিটি সার্ভিস।
- বেশ কিছু সেবা নিতে আপনার টিআইএন লাগবে। যেমন ঋণপত্র স্থাপন, রপ্তানি নিবন্ধন সনদ নেওয়া, বীমা জরিপ প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, হিসাববিদসহ বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য, কেম্পানির পরিচালক ও স্পনসর শেয়ারহোল্ডার, বিবাহ নিবন্ধনকারী বা কাজি, ড্রাগ লাইসেন্সধারী।
- ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিলেও টিআইএন থাকতে হবে।
জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে টিআইএন থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিআইএন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর প্রশাসন আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়। একই সঙ্গে নাগরিকদের আর্থিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ সহজ হয় এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পায়।
তবে অনেকেই নিয়মিত আয়কর রিটার্ন না দেওয়ায় এ ব্যবস্থার পূর্ণ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।