শিরোনাম
◈ খুচরা বিক্রেতাদের সার বিক্রি অব্যাহত রাখতে নির্দেশ সরকারের ◈ আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), দেশজুড়ে নানা আয়োজন ◈ মিয়ানমারে সহিংসতা-নির্যাতনে বিপর্যস্ত মানুষ, রোহিঙ্গাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ: জাতিসংঘ ◈ ‘উপহার’ হিসেবে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ◈ রংপুরে চার হত্যা: ‘ধর্ষণের আলামত’ নিয়ে ডোম-চিকিৎসকের বক্তব্যে ভিন্নতা ◈ বিড়ালের আঁচড়ের পর শিশুর ‘মিউ মিউ’ শব্দ, জানুন আসল ঘটনা ◈ মহানবীর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি ◈ জামায়াতের মতাদর্শের বিষয়ে সতর্ক করলেন কওমি আলেমরা ◈ বিদিশা এরশাদ গ্রেপ্তার: প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, গুলশান থেকে আটক ◈ কারখানা থেকে ক্লাসরুম, রোবট বিপ্লবে বদলে যাচ্ছে চীন

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৩ দুপুর
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

অবশেষে স্বস্তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলে, অস্বস্তি এলপিজি ও পাইপলাইনের গ্যাসে!

মনজুর এ আজিজ: অবশেষে দুই মাস পরে স্বস্তি ফিরেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলে। রাজধানীর পাম্পগুলোতে তেল পেতে লম্বা লাইন ধরতে হচ্ছে না। অন্যদিকে বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় অসহনীয় লোডশেডিং থেকে মুক্তি পেয়েছে জনগণ। তবে এখনও অস্বস্তি রয়ে গেছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি ও পাইপলাইনের গ্যাসে। গত ডিসেম্বর মাস থেকেই এলপি গ্যাসে অরাজকতা চলছে। এক সময় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হলেও এখন ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়তি গুণতে হচ্ছে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এপ্রিল মাসে নজিরবিহীনভাবে দুই দফায় ৫৯৯ টাকা দাম বাড়িয়ে ১২ কেজি এলপিজি ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তারপরও নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে অনেকেই। বনশ্রীর বাসিন্দা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুব মুসা বলেন, ২৫ এপ্রিল ১৯৪০ টাকা দামের ১২ কেজি এলপি গ্যাস ২২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। এভাবে প্রতিনিয়ত আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে। আবার কখনো কখনো দাম আরও বেশি নিতে অত্যন্ত সুকৌশলে সিলিন্ডার নেই বলে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলছেন স্থানীয় ডলাররা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে আমরা এ ভোগান্তির সমাধান কামনা করছি। 

রংপুর শহরের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক ঝন্টু মিয়া ২৬ এপ্রিল ২০০০ টাকা দিয়ে আইগ্যাস কেনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওমেরা গ্যাসের দাম আরও বেশি। এক সময় ১৩০০ টাকার এলপিজি ২৫০০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ দিকে ডিসেম্বর থেকে এই অরাজকতা চলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে শুরু করে নতুন সরকারও শুধু ব্যবসায়ীদের চাওয়া পূরণ করে যাচ্ছে। বলা যায়, তারা যা চেয়েছে সবটাই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না এলপিজির বাজারদর।

অন্যদিকে জ্বালানি তেল নিয়ে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বাংলাদেশ। ইরান যুদ্ধের কারণে আতঙ্কিত লোকজন বেশি তেল কেনা শুরু করলে গত ৬ মার্চ তেল সরবরাহে রেশনিং করা হয়। এতে পাম্পে যানবাহনের সারি লম্বা হতে থাকে। তেল সংগ্রহ করতে ৮-১২ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদা মোতাবেক তেল পাওয়া যায়নি। ১৫ মার্চ রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হয়। তেল পেতে পাম্পের সামনে রাত্রীযাপনসহ অনেক ঘটনা ঘটতে থাকে।

সরকার বাধ্য হয়ে ট্যাগ অফিসার নিয়োগসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করে। তারপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করা যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে কোন কিছুতেই লাইন থামছিল না। অবশেষে চলতি সপ্তাহ থেকে লাইন কমতে শুরু করেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর মেঘনা মডেল পাম্পসহ অনেক পম্প ঘুরে স্বস্তির চিত্র মিলেছে। পরিবাগে অবস্থিত মেঘনা মডেল পাম্পে কয়েকদিন আগেও তেল পেতে সময় লেগেছে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা। এখন সেখানে কয়েক মিনিটের মধ্যে তেল নিতে পারছে প্রাইভেটকার ও বাইকচালকরা।

তেল নিয়ে দুর্ভোগের মধ্যেই কয়েকদিন ধরে শুরু হয়েছিল বিদ্যুৎ বিভ্রাট। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বেড়ে যায়। কোন কোন এলাকা থেকে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের খবর আসতে থাকে। সরকারি হিসেবেই ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কথা স্বীকার করা হয়। তবে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেখানেও পুরোপুরি স্বস্তি নেমেছে বলে দাবি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। মঙ্গলবার সকালের দিকে মাত্র ৪৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। এদিন রাত ১টায় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৫৫৫ মেগাওয়াট। এর আগে কয়েকদিন সেই চাহিদা উঠেছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াটের উপরে।

এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বৃষ্টি শেষে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে সামাল দেওয়া যাবে কি-না। বিপিডিবি দাবি করেছে, ইতোমধ্যেই অনেক জায়গায় বোরো ধান কর্তন শুরু হয়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় দেরিতে রোপন করা বোরোতেও আর সেচের প্রয়োজন হবে না। সেদিক থেকে চাহিদা কিছুটা কমে আসবে। যে কারণে আগামী সপ্তাহে লোডশেডিং কমে আসবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। লোডশেডিং হলেও তা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে জানান তিনি।

  • সর্বশেষ