শিরোনাম
◈ এআই ক্যামেরার ভয়ে ফাঁকা রাস্তাতেও ট্রাফিক আইন মানছেন চালকেরা ◈ না‌হিদ রানা এপ্রিল মা‌সের আইসিসির সেরা ক্রিকেটার নির্বা‌চিত ◈ অভিজ্ঞদের নিয়ে বিশ্বকাপ ফুটব‌লে নিউজিল্যান্ড দল  ◈ বাংলাদেশের জন্য পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের তাৎপর্য ◈ দেশের ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য দিল সরকার ◈ ঈদুল আজহার ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি ◈ ২০২৭ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা ◈ দেশে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, বেড়েছে ৬ লাখের বেশি ভোটার ◈ চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, স্যুপ, বিস্কুটে উচ্চমাত্রার লবণ: বছরে মারা যাচ্ছে ২৪,০০০ মানুষ ◈ পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ, নতুন নির্দেশনা জারি করলো বিজেপি

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৫৪ সকাল
আপডেট : ১৪ মে, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ব্যাংক অনিয়মের অভিযোগে গভর্নরের কাছে ২৬ গার্মেন্ট মালিকের আবেদন

দেশের তৈরি পোশাক খাতের অনেক উদ্যোক্তার অভিযোগ—ব্যাংক কর্মকর্তাদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বল তদারকির দায় শেষ পর্যন্ত এসে পড়ে প্রকৃত শিল্প উদ্যোক্তাদের কাঁধেই। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের ভেতরে সংঘটিত জালিয়াতি বা অনিয়মের কারণে ব্যবসায়ীরা ঋণখেলাপির তকমা পাচ্ছেন, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাদের কারখানা। এতে শুধু উদ্যোক্তারাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কর্মসংস্থান ও দেশের রফতানি খাতও।

এমন একটি বড় অভিযোগ উঠেছে প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির নারায়ণগঞ্জ শাখাকে ঘিরে। ভুক্তভোগী গার্মেন্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ভুয়া সেলস কন্ট্রাক্ট ও জাল ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবহার করে হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম করেছেন। পরে সেই দায় উল্টো উদ্যোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জাল কাগজপত্র, ফোর্সড লোন, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি, প্রশাসনিক জটিলতা—সব কিছুই উদ্যোক্তাদের আর্থিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর এক তদন্তেও বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। তদন্তে দেখা গেছে, ভুয়া রফতানির আড়ালে ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৮১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শাখা ব্যবস্থাপনা ও প্রধান কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

রফতানির তুলনায় বেশি আমদানি দেখানোর অস্বাভাবিকতা

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রফতানিমুখী শিল্পে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কাঁচামাল আমদানির পরিমাণ রফতানির তুলনায় কম থাকার কথা। কিন্তু প্রিমিয়ার ব্যাংকের ওই শাখায় উল্টো চিত্র পাওয়া গেছে। রফতানির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কাঁচামাল আমদানির তথ্য দেখানো হয়েছে। আবার কাঁচামালের বড় অংশ বিদেশ থেকে না এনে স্থানীয় বাজার থেকে কেনা দেখিয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সমন্বয় করা হয়েছে, যা ব্যাংকিং বিধিবিধান পরিপন্থি।

এছাড়া প্রকৃত রফতানি আয় না থাকলেও ঋণের টাকা ডলারে রূপান্তর করে এলসির দায় সমন্বয় করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে কয়েক বছরে ধাপে ধাপে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যাংক থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত সীমার কয়েকগুণ বেশি ঋণ দেওয়া হয়েছে। এটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। বিএফআইইউ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ।‌

বিএফআইইউর তদন্তে উঠে এসেছে, রফতানি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া রয়েছে, প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখায় তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। রফতানির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কাঁচামাল আমদানির তথ্য দেখানো হয়েছে। আবার এসব আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই কোনও রফতানি কার্যক্রমই পরিচালিত হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং বিধিবিধানের বাইরে গিয়ে ঋণের অর্থ ডলারে রূপান্তর করে ব্যাক টু ব্যাক এলসির দায় সমন্বয় দেখানো হয়। একই পদ্ধতিতে ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভুয়া রফতানির আড়ালে প্রায় ৩ হাজার ৮১ কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে আরও দেখা গেছে, ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া কমিটমেন্ট আইডি তৈরি করে এসব লেনদেন সম্পন্ন করা হয়। এর মাধ্যমে কাগুজে বিল ও ব্যাক টু ব্যাক এলসি তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

২৬ গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের গুরুতর অভিযোগ

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জের ২৬টি শতভাগ রফতানিমুখী গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে যৌথভাবে আবেদন করেছেন। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে রফতানি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তারা বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সদস্য।

কিন্তু ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া আইডি তৈরি করে জাল সেলস কন্ট্রাক্ট তৈরি করেন। এরপর সেই কাগজপত্র ব্যবহার করে একাধিক জাল ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলা হয়।

উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, এসব এলসি খোলার বিষয়ে তাদের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তারা বিষয়টি জানতেও পারেননি।

চলতি হিসাব থেকে টাকা কেটে ডলার কেনার অভিযোগ

উদ্যোক্তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, জাল এলসির বিপরীতে তাদের প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব থেকে টাকা কেটে মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে।

এর ফলে দেশীয় মুদ্রা অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করে বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

একতরফা ‘ফোর্সড লোন’ সৃষ্টি

গার্মেন্ট উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, ব্যাংক তাদের অজ্ঞাতে তথাকথিত ‘ফোর্সড লোন’ ও ‘ডিমান্ড লোন’ সৃষ্টি করেছে। পরে এসব ঋণের ওপর বিপুল সুদ আরোপ করা হয়েছে। তাদের দাবি, কোনও পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এসব ঋণ সৃষ্টি করা হয়েছে। পরে স্যাংশন লেটারের মাধ্যমে জানানো হয় যে প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের পাওনা তাদের অনুমোদিত ঋণসীমার কয়েকগুণ বেশি।

এছাড়া ব্যাংকের নিজস্ব শর্ত অনুযায়ী কোনও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট রফতানি এলসি বা সেলস কন্ট্রাক্টের নেট এফওবি মূল্যের ৭৫ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে এই সীমা অতিক্রম করে এলসি খোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উদ্যোক্তারা।

বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

উদ্যোক্তাদের আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইনস ফর ফরেইন এক্সচেঞ্জ ট্রানজেকশনস অনুযায়ী ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির দায় সমন্বয় করার একমাত্র অনুমোদিত উপায় হলো রফতানি আয়ের মাধ্যমে পরিশোধ। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শাখায় চলতি হিসাব, নগদ জমা, রফতানি বিল ক্রয় এবং ফোর্সড লোন তৈরি করে এসব এলসি সমন্বয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উদ্যোক্তাদের মতে, এটি ফরেইন এক্সচেঞ্জ রেজুলেশন অ্যাক্ট ১৯৪৭ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

হিসাব চাইলে দেওয়া হয়নি

ভুক্তভোগী উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেছেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বারবার ব্যাংকের কাছে পূর্ণাঙ্গ হিসাব বিবরণী চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক পুরোনো ফাঁকা চেক ব্যবহার করে অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুনঃতফসিল নিতে চাপ

উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর ঋণ পুনঃতফসিল নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে। বলা হয়েছে, শর্ত না মানলে সব ধরনের ঋণসুবিধা বাতিল করা হবে, এলসি সুবিধা বন্ধ করা হবে এবং প্যাকিং ক্রেডিট (পিসি)  লিমিট প্রত্যাহার করা হবে। তাদের মতে, পিসি লিমিট বন্ধ হলে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া সম্ভব হতো না এবং এতে কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।

আদালতে গড়িয়েছে বিরোধ

কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের দাবি করা ঋণ মেনে নেয়নি এবং প্রকৃত হিসাব নির্ধারণের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। অপরদিকে যারা বাধ্য হয়ে ঋণ স্বীকার করেছে, তাদের ক্ষেত্রে ওই দায়কে ফোর্সড লোন থেকে টার্ম লোন বা টাইম লোনে রূপান্তর করে চার থেকে ছয় বছরের জন্য পুনঃতফসিল করা হয়েছে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পুনঃতফসিল বাতিল করে ঋণগুলো শ্রেণিকৃত করলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উচ্চ আদালতে রিট করে স্থগিতাদেশ নেয়।

মানসিক চাপে তিন উদ্যোক্তার মৃত্যু

ভুক্তভোগী উদ্যোক্তাদের দাবি, ব্যাংকের চাপ ও আরোপিত বিপুল ঋণের মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিন জন গার্মেন্ট উদ্যোক্তার মৃত্যু হয়েছে।

তাদের মধ্যে টোটাল ফ্যাশন লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসিবউদ্দিন মিয়া অন্যতম। অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর মাত্র একদিনে তাকে ৩৭ বার ফোন করে ঋণ পুনঃতফসিলের নথিতে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২৭ ডিসেম্বর মারা যান।

আরেক উদ্যোক্তা ওয়েস্ট অ্যাপারেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ হাসান মাহমুদ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হৃদরোগে মারা যান। তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হওয়ার পর তিনি চরম মানসিক চাপে ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া জাননী ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও একই ধরনের মানসিক চাপে অকাল মৃত্যুবরণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

“ব্যবসা করি আমরা, মুনাফা করে ব্যাংক”

ফ্যাশন ৪৭ বিডি লিমিটেডের মালিক এবং বিকেএমইএ’র সদস্য দিল মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ব্যবসায়ীরা উৎপাদন ও রফতানির মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও নানা অনিয়মের দায় শেষ পর্যন্ত তাদেরই বহন করতে হয়।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা ব্যবসা করি আর ব্যাংক মুনাফা করে। কিন্তু সমস্যার সময় আমাদের পাশে দাঁড়ানোর বদলে উল্টো চাপ বাড়ানো হয়। প্রিমিয়ার ব্যাংকের অনিয়মের দায় আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে আমরা চরমভাবে নাজেহাল হচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, ‘‘আগের সরকারের আমলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজশে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট হয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনায় জড়িত অনেক কর্মকর্তা এখন লাপাত্তা, আর উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত উদ্যোক্তারাই বিপাকে পড়েছেন।’’ তার দাবি, এই পরিস্থিতির কারণে তাদের গার্মেন্ট কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে।

নিলাম স্থগিতের দাবি বিকেএমইএ’র

এদিকে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা কর্তৃক একতরফাভাবে ডাকা নিলাম বিজ্ঞপ্তি স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘‘নারায়ণগঞ্জ শাখায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নিলাম করা হলে তা অন্যায় হবে।’’

তিনি বলেন, “নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া একতরফা নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে দেশের রফতানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” সার্বিক বিষয়ে জানতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুর মফিজকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

রফতানি ও কর্মসংস্থানের ঝুঁকি

উদ্যোক্তাদের আবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ২৬টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেলে হাজারো শ্রমিক কর্মসংস্থান হারাতে পারেন। এতে দেশের রফতানি আয়ও কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তদন্ত ও সমাধানের দাবি

এই পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—ব্যাংকের আরোপিত ঋণের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত। প্রকৃত দায় নির্ধারণ। যারা এককালীন টাকা দিয়ে বের হতে চান তাদের নিরাপদ প্রস্থানের সুযোগ এবং যারা ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান তাদের জন্য যৌক্তিক সহায়তা। উদ্যোক্তাদের মতে, ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া কোনও সমাধান নয়, বরং কারখানা চালু থাকলে প্রকৃত দায় পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়