শিরোনাম
◈ খুচরা বিক্রেতাদের সার বিক্রি অব্যাহত রাখতে নির্দেশ সরকারের ◈ আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), দেশজুড়ে নানা আয়োজন ◈ মিয়ানমারে সহিংসতা-নির্যাতনে বিপর্যস্ত মানুষ, রোহিঙ্গাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ: জাতিসংঘ ◈ ‘উপহার’ হিসেবে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ◈ রংপুরে চার হত্যা: ‘ধর্ষণের আলামত’ নিয়ে ডোম-চিকিৎসকের বক্তব্যে ভিন্নতা ◈ বিড়ালের আঁচড়ের পর শিশুর ‘মিউ মিউ’ শব্দ, জানুন আসল ঘটনা ◈ মহানবীর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি ◈ জামায়াতের মতাদর্শের বিষয়ে সতর্ক করলেন কওমি আলেমরা ◈ বিদিশা এরশাদ গ্রেপ্তার: প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, গুলশান থেকে আটক ◈ কারখানা থেকে ক্লাসরুম, রোবট বিপ্লবে বদলে যাচ্ছে চীন

প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২১ রাত
আপডেট : ১২ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারতীয় তুলা থেকে সরে যুক্তরাষ্ট্রের তুলার দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ভারতীয় তুলার পরিবর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন মুখপাত্র। তিনি জানান, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) স্বাক্ষরিত মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তির ফলে এটি সম্ভব হচ্ছে। 

'দ্য হিন্দু' পত্রিকাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তিটি একটি 'গেম চেঞ্জার' (আমূল পরিবর্তনকারী পদক্ষেপ), যা মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের আরও বৃহত্তর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে পারে। অনুবাদ: টিভিএস নিউজ

ঢাকার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সেলিম জাহান এ বিষয়ে বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের তুলার বাজারকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে 'আকর্ষণীয়' করে তুলেছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন মার্কিন তুলা উচ্চমানের হয়।

শফিকুল আলম বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে আমাদের জন্য ১৯ শতাংশ শুল্ক হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ যেমন কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় বেশ ভালো। তবে এই চুক্তির একটি বিশেষ ধারা আমাদের আরও বড় সুবিধা প্রদান করেছে; সেটি হলো—যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনতে রাজি হয়েছে যদি আমাদের বস্ত্র উৎপাদকরা মার্কিন তুলা অথবা কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার শুরু করেন।' 

এই বাণিজ্য চুক্তিটিকে তিনি বাংলাদেশের বস্ত্র খাতের জন্য একটি 'বিশাল অনুপ্রেরণা' বা 'বিগ বুস্ট' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে ভারত ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো থেকে আমদানি করে, কারণ দেশের বড় বস্ত্র খাতের জন্য প্রয়োজনীয় তুলো বা সুতা উৎপাদন হয় না। তবে এই সীমাবদ্ধতাও বাংলাদেশের পক্ষে সহায়ক হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায়, কারণ বাংলাদেশে তুলা চাষিদের এমন কোনো শক্তিশালী গোষ্ঠী (লবি) নেই যারা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারত।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল-মে মাসে ভারতের সঙ্গে তুলা ও তুলার সুতা বাণিজ্য আলোচনার কেন্দ্রে আসে, যখন উভয় পক্ষই এই পণ্যগুলোর ওপর পাল্টাপাল্টি বিধিনিষেধ আরোপ করে। বিশেষ করে, বাংলাদেশ ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিলের একটি আদেশের মাধ্যমে ভারতের সাথে তার স্থলবন্দরগুলো দিয়ে সুতা আমদানির ওপর বিধিনিষেধ জারি করে।

২০২৪ সালে ভারত বাংলাদেশে ১.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সুতা এবং প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের কৃত্রিম তন্তু (এমএমএফ) বা মানবসৃষ্ট তন্তুর সুতা রপ্তানি করেছিল। এই সুতার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াত করে। বাংলাদেশ ভারতীয় তুলার বৃহত্তম আমদানিকারকদের মধ্যে অন্যতম।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হওয়ার পর, ২০২৫ সালের ১৬ মে ভারত তাদের স্থলবন্দর দিয়ে বেশ কিছু পণ্য আমদানির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে। এর মধ্যে ছিল তৈরি পোশাক, যা বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া বৃহত্তম পণ্য। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা এখন মার্কিন বাজারের দিকে মনোনিবেশ করবে, যা বাংলাদেশি প্রস্তুতকারকদের জন্য বৃহত্তম বস্ত্র বাজার।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেলিম জাহান স্বীকার করে বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তিটি বাংলাদেশে মার্কিন কাঁচা তুলার জন্য 'নিঃসন্দেহে' একটি বাজার তৈরি করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই চুক্তিটি 'বাংলাদেশকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে, কারণ এটি বাংলাদেশকে অন্যান্য প্রতিযোগী তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলোর উৎস খুঁজতে বাধা দেবে।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রথমে মনে হতে পারে, বাংলাদেশ যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদন করে, তবে ১৯ শতাংশ ট্যারিফ বা শুল্ক শূন্যে নেমে আসার ফলে বাংলাদেশের অর্থ সাশ্রয় হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি একটি লাভজনক চুক্তি হবে কি না তা বোঝার জন্য আমাদের মার্কিন তুলা কেনার খরচের সাথে মালবাহী জাহাজ ভাড়া, পরিবহন খরচ ইত্যাদি যোগ করে দেখতে হবে।'

তাই বাংলাদেশকে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহকৃত তুলা যেন ভারত ও মিশরসহ অন্যান্য দেশের তুলার মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় বলে পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, "টেক্সটাইল খাতে তুলার গুণমানই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি মার্কিন তুলার মান আশানুরূপ না হয়, তবে এমনকি মার্কিন ক্রেতারাও আমাদের তৈরি পণ্য পছন্দ নাও করতে পারেন।" 

তিনি পরামর্শ দেন, বাংলাদেশের তুলার বাজার আরও কিছু সময় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, কারণ টেক্সটাইল খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এই চুক্তি থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাবে।

  • সর্বশেষ