সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন টানা আট দিন ধরে জ্বলছে। বন্ধ হয়নি গ্যাসের নির্গমনও। বরং পর্যবেক্ষণে আগুনের শিখা ক্রমেই বাড়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখনই আগুন নেভানোর উদ্যোগ নিচ্ছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) ও পেট্রোবাংলা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, গ্যাসের উৎস, প্রকৃতি ও প্রবাহ সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ কারণে আগামী ১৫ দিন আগুনের শিখার উচ্চতা, গ্যাসের প্রবাহ ও পরিস্থিতির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকল্প বা রিলিফ কূপ খননের মাধ্যমে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে ভূগর্ভে সিমেন্ট পাম্প করে গ্যাসের নির্গমন বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের দলনেতা এস এম নাফিফুন আরহাম বলেন, বৈজ্ঞানিক বিবেচনায় বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাস জ্বলতে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত হতে পারে। তবে জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রথমে সাত দিন পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটি অগভীর গ্যাসের মজুত বা শ্যালো রিজার্ভার থেকে নির্গত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের শিখার কালো রং দেখে গ্যাসের সঙ্গে তেল বা কনডেনসেট থাকার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে পরীক্ষা ছাড়া গ্যাসের প্রকৃত উপাদান ও মজুত নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
আগুনের প্রচণ্ড তাপের কারণে এখনো গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা যায়নি। পরবর্তী সময়ে সেখানে ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে মানুষের প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। টানা আগুন জ্বলতে থাকায় ইনানী ছোট খাল ও শফিরবিল এলাকার প্রায় ৪০০ পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, বিষয়টি কারিগরি ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট। বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।