কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ঐতিহৗবাহী বাহারচরা রত্নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলীম,সিনিয়র শিক্ষক গৌরী শীল, আজিজ আহমদ, মঞ্জুর আলম, জয়নাল আবেদিন ও অফিস সহকারী জহিরুল আলমের অবসর জনিত বিদায় সংবর্ধনা শুক্রবার অনুষ্টিত হয়।
বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী বাহারছাড়া রত্নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন এর পরিচালক (কারিগরি) ক্যাপ্টেন হাসেমুর রহমান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের সম্মানে দর্শক সারিতে ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষাসংগঠক, লেখক ও গবেষক আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান, সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা আজিজ আহমেদ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ লোকমান, কমিটির সদস্য মাহবুবুল আলমসহ সকল অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন চৌধুরী, সহকারী প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা খানম, হেড মাওলানা মাওলানা হারুনুর রশিদ ও আবু তাহেরসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।
সকালে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জুমার নামাজের বিরতির পর বিকালে শুরু হয় মূল সংবর্ধনা পর্ব। এতে বিভিন্ন সালের এসএসসি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে কাটানো স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন। ১৯৯২ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন তারা হলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাঙামাটি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী পিপিএম, সিনিয়র সহকারী সচিব হামিদুর রহমান ওয়াহিদ; রাঙামাটি সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হোসেন, দাগনভূঞা, ফেনীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিদুল ইসলাম মিনহাজ এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রভাষক রবিউল হোসেন।
শিক্ষক ও অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবু তাহের, মাস্টার শাহাবুদ্দিন, মনসুর আলম, জাহাঙ্গীর আলম, দেলোয়ার আজিম, আব্দুল মজিদ, আজম খান,ব্যাংকার আব্দুল আলিম, ইঞ্জিনিয়ার মোরশেদ আলম, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিনসহ অনেকে।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষকদের অবদান, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানই বিতরণ করেন না, বরং শিক্ষার্থীদের জীবনের সঠিক পথ দেখান। তাই কর্মজীবন শেষে অবসরে গেলেও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে শিক্ষকদের সম্মান ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে।
সংবর্ধিত শিক্ষকরা তাঁদের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এমন আন্তরিক উদ্যোগে গভীর সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার আবেগঘন প্রতিফলন ঘটে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শওকত ওসমান এবং অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, স্মৃতিচারণ ও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এক অনন্য উপলক্ষে পরিণত হয়। বক্তৃতা, স্মৃতিচারণ, সংবর্ধিত শিক্ষকদের বক্তব্য এবং সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাতে অন্যরকম একটা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।