বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের বামনিকাঠি গ্রামে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়া অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
একই পরিবারের চারজন সদস্যের মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা এবং ছোট ছেলের দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার খবর পেয়ে আজ তাঁর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান ও খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বামনিকাঠি গ্রামের বৃদ্ধ ইউসুফ হাওলাদার (৭০), তাঁর স্ত্রী ফুলচান (৬০), বড় ছেলে নুরুল ইসলাম (৩৭) ও বড় মেয়ে রাসেদা (৩২) দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। অন্যদিকে, পরিবারের ছোট ছেলে সবুজ (১৮) বিভিন্ন জটিল শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত। চরম আর্থিক অনটনের কারণে এই পাঁচজন অসুস্থ সদস্যের কারোরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছিল না।
পরিবারের সাত সন্তানের মধ্যে মেজো ছেলে জব্বার (২৬) ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তাঁর সেই সীমিত আয় দিয়ে ৯ জনের সংসারের চাল-ডাল কেনাই যেখানে অসম্ভব, সেখানে পাঁচজন গুরুতর অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
এই করুণ পরিস্থিতির খবর পেয়ে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি’র নির্দেশনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলা শাখার একটি প্রতিনিধিদল আজ বামনিকাঠি গ্রামে ইউসুফ হাওলাদারের বাড়িতে যান। নেতৃবৃন্দ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের শারীরিক অবস্থা দেখেন এবং তাদের জরুরি চিকিৎসায় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন।
এই প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. রফিকুল ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এক বিবৃতিতে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, "অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের এই দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার খবরটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাঁদের চিকিৎসা ও সার্বিক কল্যাণে আমাদের এই সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই, এই কঠিন সময়ে পরিবারটি যেন নিজেদের অসহায় বা একা মনে না করে।"
উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ জানান, ইসলামের মানবিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার আলোকে সমাজের এমন অবহেলিত ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার কর্তব্য। পরিবারটির তাৎক্ষণিক সংকট কাটাতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি উপায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই পরিবারের পাঁচজন অসুস্থ মানুষের এই চরম দুর্দিনে সংসদ সদস্যের এমন তাৎক্ষণিক সাড়া এবং মানবিক সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল গভীরভাবে প্রশংসা করেছেন।