শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্রের নথি কিনেছে ৩ বিদেশি কোম্পানি ◈ জমি জটিলতায় দুই বছরেও খনন হয়নি সিলেটের ২ গ্যাস কূপ, ঝুঁকিতে ৫৬ বিসিএফ গ্যাস উৎপাদন! ◈ ঢাকা-কুমিল্লা উড়াল রেলপথে ব্যয় ৮৪ হাজার কোটি টাকা, কমবে চট্টগ্রামের দূরত্ব ◈ এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করলেই ১৫ দিনের মধ্যে আবার পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী ◈ হামলার ভয়ে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে ছুটছেন সৌদি যুবরাজ ◈ জা‌র্সিতে থাকা সৌদি আরবের পতাকায় চুমু খেলেন ক্রিশ্চিয়া‌নো রোনালদো  ◈ সৌদি-হুথি সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ ◈ বগুড়ায় ক্লাসে শাসন করায় শিক্ষককে লাঠিপেটা, সেই সপ্তম শ্রেণির ছাত্রকে স্থায়ী টিসি ◈ চকবাজারে আগুন নিয়ন্ত্রণে, ভবনের ৬-৭ তলায় এখনও তীব্র তাপ: ধোঁয়ায় চেহারা কা‌লো হ‌য়ে গে‌ছে ফায়ার ফাইটার ও স্বেচ্ছা‌সেবক‌দের ◈ অনুমোদিত মাধ্যম ছাড়া ট্রেনের টিকিট কিনে প্রতারিত হলে দায় নেবে না রেলওয়ে

প্রকাশিত : ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:১১ রাত
আপডেট : ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৫০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজার সৈকতে প্লাস্টিকের ‘দানব' : চার মাসের প্রদর্শনীতে সমুদ্রদূষণ রোধে সচেতনতার উদ্যোগ

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : সমুদ্রের বুকে জমছে মানুষের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য। সেই প্লাস্টিকই এবার রূপ নিয়েছে প্রতিবাদের ভাষায়। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য দিয়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নির্মাণ করা হয়েছে ব্যতিক্রমী ভাস্কর্য ‘প্লাস্টিক দানব’। সমুদ্রদূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

সোমবার রাতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন  কক্সবাজারেরa  জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। চার মাসব্যাপী এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে কয়েক লাখ পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের কাছে প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।

শুধু ভাস্কর্য প্রদর্শন নয়, এর পাশাপাশি সৈকতে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ থিয়েটার। সেখানে দেখানো হবে দায়িত্বশীল পর্যটনবিষয়ক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি দেখতে প্রবেশমূল্য হিসেবে দর্শনার্থীদের সঙ্গে আনতে হবে দুটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল। এর মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশ রক্ষায় নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সমুদ্র দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্র ও সৈকতের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে। এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দূষণের ভয়াবহতা মানুষের সামনে দৃশ্যমান করবে এবং আচরণ পরিবর্তনে উৎসাহিত করবে।

Advertisement

তিনি বলেন, কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটক, স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, মানুষ সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করলেও অনেক সময় সেটিকে দূষিত করার পেছনে নিজেদের ভূমিকার কথা ভুলে যায়। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ‘প্লাস্টিক দানব’ মূলত মানুষের অসচেতনতারই প্রতিচ্ছবি। ভাস্কর্যটি দেখে দর্শনার্থীরা যেন শুধু ছবি তুলে চলে না যান, বরং নিজেদের ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বর্জ্য কোথায় ফেলছেন এবং তা সমুদ্রের পরিবেশের কী ক্ষতি করছে, সে বিষয়েও ভাবেন—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সারা বছর কক্সবাজারে ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’ পরিচালনা করছে। সেখানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বিনিময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ কার্যক্রমে সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ‘প্লাস্টিক দানব’ ভাস্কর্যটি। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বর্জ্যকে সচেতনতা তৈরির উপকরণে রূপান্তর করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

জামাল উদ্দিন বলেন, তাঁদের লক্ষ্য শুধু একটি ভাস্কর্য তৈরি করা নয়, বরং মানুষের চিন্তা ও আচরণে পরিবর্তন আনা। পর্যটকরা কক্সবাজার থেকে ফেরার সময় যেন সুন্দর স্মৃতির পাশাপাশি সমুদ্রকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ববোধও সঙ্গে নিয়ে যান। সমুদ্র রক্ষার দায়িত্ব কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নয়; এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

*প্লাস্টিক বর্জ্য থেকেই সচেতনতার বার্তা*

আয়োজকদের মতে, ‘প্লাস্টিক দানব’ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাবের দৃশ্যমান প্রতীক। ভাস্কর্যটি পর্যটকদের প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিবেশবান্ধব আচরণে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরবে।

চার মাসব্যাপী এ প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে উঠবে বলে আশা করছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

আয়োজকদের আহ্বান, কক্সবাজার শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। সমুদ্রকে ভালোবাসার কার্যকর উপায় হলো একে দূষণমুক্ত রাখা। তাই যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক না ফেলে, বর্জ্য সংগ্রহে অংশ নিয়ে এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের চর্চার মাধ্যমে সমুদ্র রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।