আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: নিজের গর্ভের সন্তানের হাতেই দিনের পর দিন নির্যাতিত হচ্ছিলেন এক অসহায় মা। মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন তিনি।
মায়ের সেই করুণ আর্তনাদে সাড়া দিয়ে তার বাড়িতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এসময় মাদকাসক্ত অবস্থায় ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ হাতেনাতে আটক করা হয় মাদকাসক্ত ছেলেকে। পরে তাকে ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
একজন মা কতটা অসহায় হলে নিজের ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে বাধ্য হন — এই ঘটনা তারই করুণ প্রমাণ।
ঘটনাটি ঠাকুরগাও রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজার এলাকায় । মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মাদকাসক্ত ছেলে জেমস ওরফে মিলনকে (৩৫) তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক রাণীশংকৈল সহকারী কমিশনার( ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুজিবর রহমান বৃহস্পতিবার এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
জেমস ওরফে মিলন উপজেলার নেকমরদ বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
মিলনের মা ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘ছেলেটার জন্য আমরা অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলাম। কোনোভাবে আর সামলাতে পারছিলাম না। তাই বাধ্য হয়ে আইনের হাতে তুলে দিয়েছি। সে যদি ভালো হয়ে ফিরে আসে, তাহলেই শান্তি।’
এবিষয়ে রাণীশংকৈল সহকারী কমিশনার( ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুজিবর রহমান জানান, মিলন কয়েক বছর ধরে গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করছেন। নেশার টাকা দিতে না পারলে প্রায়ই তিনি বাবা-মাকে গালাগাল ও মারধর করতেন। সবসসময় মায়ের কাছে টাকা চান মিলন । টাকা দিতে না পারায় মাকে মারধর করেন। পরে মা ফাতেমা খাতুন মিলনের বিরুদ্ধে এসিল্যান্ড অফিসে অভিযোগ করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে তাকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, ‘মিলন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন। পরিবারের অভিযোগের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়ে থানায় সোপর্দ করেন। শিগগিরই তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।’