শিরোনাম
◈ জরিমানা ছাড়াই ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয়ার সময় বাড়াল এনবিআর ◈ কক্সবাজার ও পেনাংয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে এয়ার এশিয়া: বিমান পরিবহনমন্ত্রী ◈ অফশোর বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়াতে লন্ডনে রোডশো, তথ্য নিয়েছে ১০ কোম্পানি ◈ বাবরির স্মৃতি থেকে উজ্জয়িনী: ভারতে মুসলিমদের ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ ◈ সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা ◈ সাইবার অপরাধ দমনে ৪৫৯২ জনের বিশেষ ইউনিট, নিয়োগ পাবেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ◈ ২ লাখ ২০ হাজার টন সার কিনবে সরকার ◈ জ্বালানি আসছে, ভালভ পরীক্ষায় সাফল্য—উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুর ◈ ৪৯ সেকেন্ড আগে গোল, পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ান গেমস হ‌কির ফাইনালে ভারত  ◈ চীনের কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৪৮ বিকাল
আপডেট : ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৪৮ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সদরপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্প জনশূন্য, ৫২ ঘরে এখন ১৫ পরিবারের বসবাস

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি : উপরে জমে থাকা কালো পানি, নিচে হাঁটুসমান কাদা আর চারপাশ ঘিরে ঝোপঝাড়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অগ্রাধিকারভিত্তিক আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো যেখানে গৃহহীন মানুষের নিরাপদ ঠিকানা হওয়ার কথা ছিল, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের সেই নতুন বাজার সংলগ্ন প্রকল্পটির অবস্থা এখন পুরোপুরি উল্টো। চলাচলের রাস্তার বেহাল দশা, নিচু জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ায় দুর্ভোগের চরম সীমায় পৌঁছেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। ফলে নিরুপায় হয়ে সিংহভাগ পরিবারই আশ্রয়ণ প্রকল্প ছেড়ে চলে গেছে।

​বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদরপুরের ঢেউখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ৫২টি ঘর রয়েছে। তবে দুর্ভোগের কারণে মাত্র ১৫টি পরিবার কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছে তাদের বসতি। ফাঁকা পড়ে থাকা বাকি ৩৭টি ঘর পড়ে আছে পুরোপুরি পরিত্যক্ত অবস্থায়। দেখভাল না থাকায় এসব ঘরের চারপাশ ঢেকে গেছে লতাপাতা আর ঝোপঝাড়ে। জঙ্গলকীর্ণ এ পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে দিন-রাতে বসছে মাদকসেবীদের আখড়া, যা অবশিষ্ট বাসিন্দাদের নিরাপত্তাঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

​বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় এক দিনের বৃষ্টিতেই টানা এক সপ্তাহ জলজট থাকে প্রকল্প এলাকায়। নিচু জায়গায় পানি আটকে অনেকে ঘরেই ঢুকে পড়ছে পানি। বাথরুম ও আঙিনায় একই অবস্থা তৈরি হওয়ায় বাসিন্দাদের মানবেতর দিন কাটাতে হচ্ছে।

​প্রকল্পের বাসিন্দা মিনু আক্তার (৪০) ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো পথ নাই। একদিন বৃষ্টি হলেই সাতদিন ধরে পানি জমে থাকে। থাকার ঘরে পানি ঢুকে যায়, বারান্দায়ও পানি আটকে থাকে। বাথরুমে পর্যন্ত যাওয়া যায় না, বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। প্রতিদিন ঘর থেকে পানি সেচতে সেচতে আমার হাতে ঘা হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের তো যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই, তাই স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে বাধ্য হয়ে এই কষ্ট সহ্য করছি।"

advertisement

​অন্য বাসিন্দা জিয়াসমিন আক্তার (৩০) জানান জীবনের ঝুঁকি আর অসুবিধার কথা। তিনি বলেন, "কয়েকদিন আগে আমার আট মাসের শিশুসন্তান উঠানে জমে থাকা পানিতে পড়ে গিয়েছিল। কোনোমতে উদ্ধার করেছি। পানি একটু কমলে চারপাশের দুর্গন্ধ আর মশা-মাছির উপদ্রবে টেকা যায় না। রাস্তায় হাঁটু কাদা। এই কষ্টের কথা সহ্য করতে না পেরে অধিকাংশ পরিবার প্রকল্প ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে গেছে। আমরা গরিব মানুষ, যাওয়ার জায়গা নাই বলেই পড়ে আছি। তার ওপর ফাঁকা ঘরগুলোতে বখাটে আর মাদকসেবীরা আড্ডা দেয়, রাতে খুব ভয় লাগে।"

​স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়হীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে গিয়ে পরিকল্পনাহীনভাবে নিচু জমিতে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এটি এখন নতুন দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। তারা অনতিবিলম্বে জলজট নিরসনে ড্রেন নির্মাণ, পরিত্যক্ত ঘর সংস্কার এবং নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশি টহলের দাবি জানান।

​সার্বিক বিষয়ে ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি স্বীকার করেন বাসিন্দাদের এই মানবিক বিপর্যয়ের কথা। তিনি বলেন, "আমি নিজে গিয়ে তাদের দুর্দশা দেখে এসেছি। সত্যিই সেখানে মানুষ থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই। জমি নিচু হওয়ায় মাটি ভরাটের কথা ভাবা হলেও তাতে জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে। তাই চারপাশ ঘুরে পাকা ড্রেন নির্মাণই একমাত্র বিকল্প সমাধান। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।"

​যোগাযোগ করা হলে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, "আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। নিচু জমি ও পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় সেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৌশলী পাঠিয়ে স্থানটি পরিদর্শন করে একটি ড্রেনেজ প্ল্যান তৈরি করব। বর্ষার পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। পাশাপাশি ফাঁকা ঘরগুলোর সংস্কার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।"

  • সর্বশেষ