পাহাড়, নীল জল আর মেঘের মিতালি প্রকৃতির এমন মুগ্ধ করা দৃশ্য দেখতে হলে যেতে পারেন সুনামগঞ্জের নীলাদ্রীতে। নীলাদ্রী লেক নামে পরিচিত এই জায়গাটি যেন সবুজ-নীল প্রকৃতির এক খোলা ক্যানভাস। স্বচ্ছ নীলাভ পানি, চারপাশের পাহাড় আর আকাশের মেঘের কারণে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয়।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা এলাকায় নীলাদ্রীর অবস্থান। স্থানীয়ভাবে জায়গাটি শহীদ সিরাজ লেক নামেও পরিচিত। একসময় এখানকার পাথর ও বালু উত্তোলনকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল কর্মচাঞ্চল্য। সময়ের সঙ্গে সেই স্থানই রূপ নিয়েছে নীল পানির মনোরম জলাধারে।
নীলাদ্রীর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর পানির রং। আবহাওয়া ও সূর্যের আলোর সঙ্গে পানির রঙে দেখা যায় নানা পরিবর্তন। কখনও নীল, কখনও সবুজাভ- দূর থেকে তাকালে মনে হয় পাহাড়ের পাদদেশে বিশাল এক নীল আয়না বিছিয়ে রাখা হয়েছে।
লেকের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ছোট-বড় টিলা ও পাহাড় জায়গাটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষায় চারপাশের প্রকৃতি যখন সবুজে ঢেকে যায়, তখন নীল পানির সঙ্গে সেই সবুজের বৈপরীত্য তৈরি করে অসাধারণ দৃশ্য। আকাশে মেঘ থাকলে পাহাড়ের গায়ে মেঘের ছায়া পড়ে বদলে যায় পুরো পরিবেশের চেহারা।
নীলাদ্রী ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ হলো নৌকায় ঘুরে দেখা। পানির ওপর নৌকা ভাসিয়ে চারপাশের পাহাড় ও প্রকৃতি দেখার অভিজ্ঞতা বেশ উপভোগ্য। নীরব জলরাশি, পাহাড়ি বাতাস আর দূরের মেঘমাখা আকাশ দেখতে দেখতে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে কয়েক ঘণ্টা কাটানোর জন্য জায়গাটি বেশ মনোরম।
তবে শুধু নীলাদ্রী দেখেই ফিরতে হয় না। কাছাকাছি রয়েছে সুনামগঞ্জের বিখ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওর, বারেকের টিলা ও যাদুকাটা নদী। তাই একসঙ্গে কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করলে ভ্রমণটি আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে বর্ষাকাল ও বর্ষার পর নীলাদ্রীর সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়। তবে ভ্রমণের আগে আবহাওয়া ও স্থানীয় নৌযান চলাচলের পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভালো। একই সঙ্গে লেকের পানিতে ময়লা না ফেলা এবং আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট না করার বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি।
সুনামগঞ্জের প্রকৃতি এমনিতেই বৈচিত্র্যময়। তার মধ্যে নীলাদ্রী যেন একটু আলাদা পাহাড়ের নীরবতা আর নীল জলের মায়ায় ঘেরা এক শান্ত জায়গা। প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে নীলাদ্রী হতে পারে ভ্রমণতালিকার সুন্দর একটি ঠিকানা।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন