সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলা। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ আয়োজন। বিকেল সাড়ে ৩টায় সৈকতের লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান। এ সময় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পর্যটন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। লাবণী পয়েন্টে বসেছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা। এতে প্রায় অর্ধশত স্টল রয়েছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন পণ্য ও কুটির শিল্পসামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, মেলার প্রতিদিনের কর্মসূচির শুরু হবে সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত উন্মুক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে। এতে লোকজ সংগীত, সুফি ও কাওয়ালি, ফোক ও দ্বৈত গান, ব্যান্ড সংগীত এবং ফায়ার শো ছিল।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বলেন, ২০২৩ সালে সর্বশেষ জমকালোভাবে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করা হয়েছিল। গত দুই বছর তেমন বড় কোনো আয়োজন ছিল না। এবার পুরোনো আমেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্যটন দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবসের আগের দুই দিন শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় এ সময় কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি বেশি থাকে। তাই এবার ২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে ফোক সংগীত, ফায়ার শো ও ব্যান্ড সংগীতের আয়োজন রয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত হবে মিউজিক্যাল নাইট। আর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসে সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, রাখাইন নৃত্য ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।
জেলা প্রশাসন জানায়, ২৭ সেপ্টেম্বরের শোভাযাত্রায় ট্যুরিস্ট পুলিশের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, সৈকতের ঘোড়ার বহর, বিচ বাইকসহ কক্সবাজারের ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও প্রসারে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পর্যটকরাও এতে অংশ নেবেন।
এ ছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা সম্পর্কে সচেতন করতে লাইফগার্ডদের জরুরি সেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকবে। স্থানীয় শিল্পী ও শিশু-কিশোরদের সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির পাশাপাশি রাখাইন সম্প্রদায়ের সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে কক্সবাজারের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। সৈকতের আকাশে থাকবে রঙিন ঘুড়ি উৎসবও।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, পর্যটন দিবসের আয়োজন সফল করতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এদিকে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে পর্যটকদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোন গেস্ট হাউস মালিক সমিতি। সংগঠনের সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, পর্যটন দিবসকে কেন্দ্র করে আগামী তিন দিন বিভিন্ন আবাসিক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় বিশেষ খাবারে পর্যটকদের ছাড় দেওয়ার কথা জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ইকবাল।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান, স্থানীয় জনগণ, পর্যটন ব্যবসায়ী, হোটেল-রিসোর্ট মালিক ও সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণে এবারের আয়োজন পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও তুলে ধরবে।