কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব শুভ মধু পূর্ণিমা শনিবার সকাল থেকে যথাযথ ধর্মীয় মর্যদায় পালনের প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে শুভ মধু পূর্ণিমা উপলক্ষে ভোরে পবিত্র ত্রিপিটকের মঙ্গলবানী পাঠ, সমবেত বুদ্ধ বন্দনা, জাতীয়, ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধ পূজা, পঞ্চশীল ও উপসথ শীল গ্রহন, ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান, উপসথ শীলধারীদের মধ্যহৃভোজ গ্রহন, মধু পূর্ণিমার তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান, আলোক সজ্জা, বুদ্ধ কীর্তন, সন্ধ্যা কালীন প্রদীপ পূজা, দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং জীব জগতের মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনা করার প্রস্তুতি নিয়েছে স্ব স্ব বৌদ্ধ বিহার গুলোতে।
বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা মহাকারুনিক মহামানব গৌতম বুদ্ধ তাঁর সংঘের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অসন্তোষ দূর করার উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে লোকালয় থেকে দূরে পারিলেয় (বা রাখালবনের) জঙ্গলে নির্জন সাধনায় রত হয়েছিলেন।
বুদ্ধের সেই প্রব্রজ্যা ও সাধনা অবস্থা দেখে বনের একটি বানর পরম ভক্তিভরে তাঁকে মধু দান করে আপ্যায়ন করেছিল। বানরের এই নিষ্কলুষ সেবা ও দানের স্মৃতি বিজড়িত ঘটনা থেকেই মূলত 'মধু পূর্ণিমা' প্রথার সূচনা হয়।
শুধু বানরই নয়, সেই একই বনে একটি হস্তিরাজ (বন্য হাতি) পরম যত্নে বুদ্ধের সেবা-শুশ্রূষা করেছিলেন। বন্য প্রাণীদের এমন অনন্য ভক্তি ও সেবার মানসিকতা বৌদ্ধ ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।
ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই পুণ্যস্মৃতি বিজড়িত দিনটি 'মধু পূর্ণিমা' হিসেবে পালিত হয়। এই দিনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ করে বানরের মধু দানের ঘটনাকে স্মরণ করে বুদ্ধের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং সংঘের ভিক্ষুকদের মধু দানসহ নানা পুণ্যকর্মে অংশ নেন। এটি দান, মৈত্রী এবং অহিংসার এক অনন্য বার্তা বহন করে।
সারাদেশে বৌদ্ধ বিহার গুলোতে উপরোক্ত কর্মসুচী সমুহ যথাযথ ও ধর্মীয় মর্যাদায় পালন করা হবে।