শিরোনাম
◈ ইউপি নির্বাচনে ইসির নতুন বিধান, জামানত বাড়ল পাঁচ গুণ ◈ বিদ্যুতায়নে বছরে কোটি কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমানোর সুযোগ বাংলাদেশের : আইইএর প্রতিবেদন ◈ ১১টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্তের পথে, এয়ারবাস নিয়ে ফ্রান্সের চাপ ◈ ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ ◈ ঢাকার আশপাশের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি ◈ জ্বালানি তেলের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া, কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ২৩ পয়সা ◈ জ্যাকসের ঝড়ে লঙ্কা বিধ্বস্ত ◈ মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ◈ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে, মূল্যস্ফীতি বাড়ার পূর্বাভাস এডিবির ◈ সাইক্লিংয়ে বাংলাদেশের হতাশা : একজন অসুস্থ আ‌রেকজন ব‌্যর্থ

প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৪ বিকাল
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভার্মি কম্পোস্টে বদলে যাচ্ছে খাদিজার কৃষি

মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর দক্ষিণ ব্লকের কৃষক খাদিজা আক্তারের কৃষিকাজে একসময় রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহারই ছিল পরিচিত পদ্ধতি। এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। বাড়ির আঙিনায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে তা নিজের জমিতে ব্যবহার করছেন তিনি। জমির চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত কম্পোস্ট বিক্রি করে আয়ও করছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের একটি প্রদর্শনী পাওয়ার পর শুরু হয় খাদিজার নতুন এই উদ্যোগ। কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তিনি প্রদর্শনীটি বাস্তবায়ন করেন। প্রশিক্ষণে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির পদ্ধতি, কাঁচামাল ব্যবস্থাপনা, কেঁচোর পরিচর্যা, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও কম্পোস্ট ব্যবহারের বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা পান তিনি।

advertisement

প্রদর্শনীর আওতায় বাড়িতে স্থাপন করা হয় পাঁচটি রিং। সেখানে কেঁচোর মাধ্যমে জৈব উপাদান প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় ৪০ দিনে ১১০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করেন খাদিজা। উদ্যোগটি সফল হওয়ায় পরে উৎপাদন বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে মাসে প্রায় ১৫০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করছেন তিনি। তিন মাসে তাঁর মোট উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪৫০ কেজি।

উৎপাদিত কম্পোস্টের একটি অংশ নিজের জমিতে ব্যবহার করছেন খাদিজা। বাকি অংশের মধ্যে ৩০০ কেজি বিক্রি করেছেন। প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করে পেয়েছেন ৪ হাজার ৫০০ টাকা।

advertisement

খাদিজা বলেন, নিজের জমিতে ব্যবহার করার পর বাড়তি কম্পোস্ট বিক্রি করে আয় হচ্ছে। এতে একদিকে জমিতে জৈবসারের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি আয়ও হচ্ছে। তাই ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন আরও বাড়ানোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে তাঁর।

ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারের প্রভাবও দেখতে পাচ্ছেন তিনি। খাদিজার ভাষ্য, জৈবসার ব্যবহারের পর তাঁর জমিতে ফসলের রোগবালাইয়ের প্রকোপ কমেছে এবং উৎপাদনও বেড়েছে। একই সঙ্গে মাটির গুণাগুণ ও উর্বরতা ধরে রাখতে জৈবসার ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন তিনি।

advertisement

কৃষির এই পরিবর্তন শুধু নিজের জমিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না খাদিজা। চলতি মৌসুমে নিজ উদ্যোগে আরও দুটি শেড নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন তিনি। উৎপাদন বাড়িয়ে নিজের জমির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ভার্মি কম্পোস্ট বাজারজাত করতে চান।

খাদিজার বাড়িতে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির উদ্যোগ দেখে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন কৃষক ইতিমধ্যে এ পদ্ধতিতে কম্পোস্ট উৎপাদনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ফলে একজন কৃষকের বাড়িতে শুরু হওয়া ছোট উদ্যোগটি ধীরে ধীরে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি করছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করা গেলে একদিকে বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা হয়, অন্যদিকে জমিতে জৈব উপাদান যোগ হয়। কৃষকেরা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর বাড়তি কম্পোস্ট বিক্রি করে আয়ও করতে পারেন। প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ ধরনের প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে তা স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই কৃষি চর্চা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

খাদিজা আক্তারের ক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী থেকে পাওয়া জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাঁচটি রিং দিয়ে শুরু করা উদ্যোগ এখন মাসে ১৫০ কেজি উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিজের জমিতে ব্যবহার, উদ্বৃত্ত বিক্রি এবং উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট তাঁর কৃষিকাজে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে।

একটি ছোট প্রদর্শনী থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন খাদিজার কাছে শুধু জৈবসার উৎপাদনের কাজ নয়; এটি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, কৃষিতে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির ব্যবহার এবং বাড়তি আয়ের একটি সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘ভার্মি কম্পোস্ট মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও টেকসই কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাদিজা আক্তার প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী থেকে পাওয়া জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজ উদ্যোগে উৎপাদন করছেন, নিজের জমিতে ব্যবহার করার পাশাপাশি উদ্বৃত্ত কম্পোস্ট বিক্রি করে আয়ও করছেন। তাঁর এই উদ্যোগ অন্য কৃষকদেরও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করবে।’

  • সর্বশেষ