হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জীবিত মুরগি কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হতে যাচ্ছিলেন এক ক্রেতা। জীবিত মুরগি জবাই করে ড্রামে রেখে পরে মরা মুরগি গছিয়ে দেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন এক বিক্রেতা। এ অপরাধে আলামিন পোল্ট্রি হাউজের মালিককে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার মুরগি বাজারে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা আদায় করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রকিবুল হাসান।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বোয়ালমারী মুরগি বাজারের আলামিন পোল্ট্রি হাউজে এক নারী দুটি সোনালি জাতের জীবিত মুরগি কিনতে যান। বিক্রেতা বাপ্পী মোল্লা ক্রেতার সামনেই মুরগি দুটি জবাই করে পরিষ্কার করার ড্রামে রাখেন। তবে ওই ড্রামে আগে থেকেই একটি মরা মুরগি রাখা ছিল। ড্রাম থেকে মুরগি পরিচ্ছন্ন করে ক্রেতাকে দেওয়ার সময় তাজা মুরগির সাথে মরা মুরগিটি গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বিক্রেতা।
বিষয়টি ক্রেতার নজরে আসলে তিনি প্রতিবাদ জানান এবং বাজারে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে বিক্রেতা বাপ্পী মোল্লা সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নিজের অপরাধ স্বীকার করলে 'পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১'-এর ২৪(১) ধারায় তাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযানে বাজারে জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল করে রাস্তার ওপর মুরগির খাঁচা রেখে ব্যবসা পরিচালনা করায় একাধিক দোকানিকে সতর্ক করে খাঁচা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান জানান, ক্রেতার সাথে প্রতারণা করে জীবিত মুরগির বদলে মরা মুরগি দেওয়ার অপরাধে পোল্ট্রি ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে বাজার মনিটরিং ও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পুনরায় একই অপরাধ করলে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।