শিরোনাম
◈ ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, সিদ্ধান্ত শিগগির: চিফ হুইপ ◈ ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ◈ কার বেতন কোন এসআরওর অধীনে? জেনে নিন নবম পে স্কেলের ক্যাটাগরিগুলো ◈ দেশীয় অর্থায়নেই সম্পন্ন হবে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প: পানি সম্পদ মন্ত্রী ◈ ৫০ সংসদীয় কমিটি গঠন : ক্ষুব্ধ বিরোধী দল, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ◈ পে স্কেলের গেজেট অনুমোদনের পরও আটকে আছে ◈ আম্বানির চিড়িয়াখানা ভানতারায় গাজীপুর থেকে চুরি হওয়া দুই লেমুর আছে কি না নিশ্চিত নয় সিআইডি! ◈ শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশি আলু-পেঁয়াজ, রপ্তানি সম্ভাবনা যাচাইয়ে যাবে প্রতিনিধি দল ◈ কাপ্তাই লেকের পানি উচ্চতা বাড়ায় আবারও খুলে দেওয়া হলো ১৬ জলকপাট ◈ দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেট ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা

প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:০৮ দুপুর
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৩৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কার বেতন কোন এসআরওর অধীনে? জেনে নিন নবম পে স্কেলের ক্যাটাগরিগুলো

‘নবম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬’ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এরপর বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পৃথক সাতটি এসআরও (Statutory Regulatory Order) জারির মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সব সরকারি চাকরিজীবীর জন্য বেতন কাঠামোর মূল কাঠামো অভিন্ন হলেও বিভিন্ন বাহিনী, প্রতিষ্ঠান ও সার্ভিসের প্রশাসনিক ও কারিগরি বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা বিধান প্রয়োজন। এ কারণে সাতটি পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরই পে স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামো প্রয়োগে প্রয়োজনীয় পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও প্রস্তুতের কাজ চলছে।

সরকারি চাকরিজীবীরা কোন ক্যাটাগরিতে?

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সাতটি পৃথক কাঠামো বা এসআরওতে যেসব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন, সেগুলো হলো—

১. সিভিল বা বেসামরিক প্রশাসন

সরকারের সাধারণ বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই কাঠামোর আওতায় থাকবেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণে এটি মূল কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

২. পুলিশ বিভাগ

বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের বেতন, ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা নির্ধারণে পৃথক এসআরও থাকবে।

৩. বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)


বিজিবির কর্মকর্তা ও সদস্যদের জন্য বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কার্যকরের ক্ষেত্রে পৃথক বিধান রাখা হবে।

৪. ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

সরকারি ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পৃথক কাঠামো কার্যকর হবে।

৫. স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান

বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আলাদা এসআরও থাকবে। এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন বেতন কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে, তার বিস্তারিত বিধান এতে উল্লেখ থাকবে।

৬. সশস্ত্র বাহিনী

সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য সংশ্লিষ্ট যৌথ বাহিনী নির্দেশনা ও পৃথক বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।

৭. বিচার বিভাগ

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা ও বিচারকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট বিধান কার্যকর থাকবে।

অর্থাৎ, নবম পে স্কেলের মূল কাঠামো একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর হলেও বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের বিস্তারিত বিধান পৃথক এসআরওর মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে।

আইবাস++-এ হবে নতুন বেতন নির্ধারণ

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে বেতন পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে অর্থ বিভাগ। এজন্য সরকারি চাকরিজীবীদের চাকরিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য আইবাস++-এ হালনাগাদ করতে হবে। এরপর সফটওয়্যারের মাধ্যমে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তথ্য পূরণ ও যাচাই শেষে নতুন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন এবং প্রযোজ্য ভাতা নির্ধারণ করা হবে।

অর্থ বিভাগের লক্ষ্য হলো, কাগজে-কলমে হিসাবের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নতুন বেতন নির্ধারণ করা। এতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। পাশাপাশি ভুল হিসাব, দ্বৈত সুবিধা কিংবা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।

২০ গ্রেড বহাল, সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

নবম পে স্কেলেও বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয় আরও স্পষ্ট করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।

একই সঙ্গে আইবাস++-এ চাকরিজীবীদের তথ্য হালনাগাদ এবং নতুন বেতন নির্ধারণের কারিগরি প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

  • সর্বশেষ