অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার ব্যয়ের টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়া সেই গ্রাহক দুই সপ্তাহ পর অবশেষে টাকা তুলতে পেরেছেন।
সোমবার একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অংশ হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের (এফএসআইবি) হালিশহর জোনাল অফিস থেকে নিজের চাহিদা মত টাকা তুলেছেন সেই গ্রাহক মো. আলাউদ্দিন।
সোমবার দুপুরে ব্যাংকের ওই শাখায় যান আলাউদ্দিনসহ ৩৫ জনের মত গ্রাহক। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচরারীরা তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তারা কেকও কাটেন। গ্রাহকদের মিষ্টি মুখও করানো হয়।
বিশেষ ব্যবস্থায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। এ ব্যাংকের যারা আমানতের পুরো টাকা তুলতে চান তাদের সুদ বাদ দিয়ে সে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে আবেদন জমা নেওয়া হয়। সোমবার এসব গ্রাহকদের নির্দিষ্ট শাখা থেকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
এসময় সেই গ্রাহক আলাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “আম্মা এখন একটু সুস্থ আছেন। মায়ের চিকিৎসাতে যে সমস্যাটা হয়েছিল, আমার কান্না সারাদেশের মানুষ দেখছে। আপনাদের ধন্যবাদ। মিডিয়াতে সেটা তুলে ধরেছিলেন।
“বাংলাদেশ সরকার কর্ণপাত করেছে এটাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডি সাহেবকে ডেকে বলেছেন, ব্যাপারটা সমাধান করতে। এটা সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে পরের দিনই একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটার জন্য মিডিয়ার নিকট আমরা কৃতজ্ঞ।”
তিনি বলেন, “এমডি মহোদয় ৩০ তারিখ দেড় ঘণ্টা দীর্ঘ বৈঠকে যেসব কথা বলেছিলেন, তার প্রায় ৯০ পারসেন্টেই এখন সঠিকতা আমরা পেয়েছি। এমডি স্যারকে ধন্যবাদ।
“আর আমরা যে দীর্ঘ ১১ মাস রাস্তায় ছিলাম। বিক্ষোভ করেছি, মিছিল করেছি। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের কর্মীদের সাথে খারাপ আচরণ করেছি সেজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আজকের এই পরিবেশ দেখে খুবই আনন্দ লাগছে। উনারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। আপনাদের নিকট চির কৃতজ্ঞ থাকব।”
গত ২৪ অগাস্ট টাকা তোলার দাবিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে একীভূত হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের হালিশহর জোনাল অফিসে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে গিয়ে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর জন্য টাকা তুলতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন আলাউদ্দিন।
‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম কমিটির’ ব্যানারে এর আগে প্রায় দেড় বছর টাকা তোলার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিলেন গ্রাহকরা।
আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে আমরা হালিশহর শাখায় যাই মোট ৩৫ জন গ্রাহক। সবাই যার যার চাহিদা মত টাকা তুলতে পেরেছেন।“
এসময় ব্যাংকে যাওয়া গ্রাহকরা স্বাভাবিক লেনদেন, হেয়ার কাট বাদ দিয়ে আগে কেটে রাখা টাকা রিফান্ডের সুযোগ, অ্যাপ চালু করা, এফডিআর-ডিপিএস ও ডাবল স্কিমের মত দীর্ঘমেয়াদি আমানতের বেলায় রেজ্যুলশন শিথিল করারও দাবি জানান।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম