হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: চার বছর ধরে কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর-ময়েনদিয়া সড়ক। ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে ছোট-বড় অজস্র গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে কাদায় রূপ নেওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো যানবাহন ও পথচারীকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির অধিকাংশ স্থানের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যোগারদিয়া বটতলা প্রধান সড়ক সংলগ্ন অংশের অবস্থা চরম নাজুক। বড় গর্তগুলো এড়াতে গিয়ে যানবাহনগুলোকে হেলেদুলে আঁকাবাঁকা পথে চলতে হচ্ছে, যাতে যেকোনো সময় মুখোমুখি সংঘর্ষের আতঙ্ক কাজ করছে। বৃষ্টির দিনে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চালকরা গর্তের অবস্থান বুঝতে না পেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক চালকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সালথা উপজেলার সোনাপুর এবং পাশের বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচল করলেও খানাখন্দের কারণে এখন ভারী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া সড়কের পাশে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। হাট-বাজারে কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বহুগুণ বেড়ে গেছে, ব্যাহত হচ্ছে জরুরি চিকিৎসাসেবাও।
স্থানীয় পাট ব্যবসায়ী আজিজাল মোল্যা ও সেকেন্দার মাস্টার আক্ষেপ করে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটা ভাঙা। বৃষ্টি হলে কোনটা রাস্তা আর কোনটা ডোবা বোঝা যায় না। পণ্য আনা-নেওয়া করতে অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া দিতে হচ্ছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই রাস্তাটি ঠিক করা দরকার।"
যোগাযোগ করা হলে সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া বলেন, "সড়কটি প্রশস্ত ও টেকসই করার লক্ষ্যে একটি নতুন প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।"
একই বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, সড়কের বর্তমান বেহাল অবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারি অনুমোদন মিললেই সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।