নিনা আফরিন, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি রূপান্তরিত আর্টিসানাল ট্রলিং বোটে মাত্র দুই দিনে প্রায় ৮০ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। বুধবার বিকেলে এফবি আব্দুল্লাহ নামের ট্রলারটি ইলিশ নিয়ে আলিপুর মৎস্য বন্দরে আসে।
পরে সিফাত ফিসে নিলামে মাছগুলো প্রায় ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়।
ট্রলারটির মাঝি বাদশা জানান, ১৮ জন জেলে নিয়ে চার দিন আগে সাগরে যান তারা। দুই দিন মাছ ধরার পর পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন এলাকায় জালে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। তবে মাছগুলোর আকার তুলনামূলক ছোট।
এদিকে, অল্প সময়ে একটি ট্রলিং বোটে এত মাছ ধরা পড়লেও সাধারণ জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
কুয়াকাটা, মহিপুর ও আলিপুরের জেলেদের অভিযোগ, অবৈধ ট্রলিং বোটগুলো আধুনিক প্রযুক্তি ও সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ব্যবহার করে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাছ ও পোনা তুলে নিচ্ছে। এতে সাধারণ জেলেরা দিনের পর দিন সাগরে থেকেও খরচ তুলতে পারছেন না।
চলতি মাসের শুরুতেও কুয়াকাটা সংলগ্ন সাগরে একটি ট্রলিং বোটে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ে, যা প্রায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাজিব সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অবৈধ জালের ব্যবহারও ইলিশ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। অবৈধ জাল ও ট্রলিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ইলিশের উৎপাদন বাড়তে পারে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, সামুদ্রিক মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ ট্রলিংয়ের অভিযোগে বোট মালিকদের সতর্ক করার পাশাপাশি এর আগে কয়েকটি বোট জব্দ করে মামলা দেওয়া হয়েছে।
জেলেদের দাবি, অবৈধ ট্রলিং বন্ধ করে সাগরের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নজরদারি ও আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হোক।