শিরোনাম
◈ সৌদি আরবের সংকটে শাহজালালে সরাসরি ও ট্রানজিটের ৮২ ফ্লাইটযাত্রায় বিঘ্ন, ভোগান্তিতে ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী ◈ ২ দিন বন্ধের ঘোষণায় সংকট, বেশি দামেও মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার ◈ ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ থাকছে না, জানালেন আইনমন্ত্রী ◈ ডিসি-এসপির সহায়তায় ৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত হলেন চুয়েট উপাচার্য, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান (ভিডিও) ◈ দুর্দান্ত লড়াই করে বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে ম্যাচ ড্র করলো আফগানিস্তান ◈ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়, বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হলিউড অভিনেত্রী ◈ বাংলাদেশে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’, বিদেশি যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা (ভিডিও) ◈ নিউইয়র্কে অপ্রীতিকর ঘটনার পর এখন কেমন আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যা জানালেন লামিয়া মোর্শেদ ◈ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ: প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয়-নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা ◈ সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলকে আবারও আলোচনায় আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:২৯ বিকাল
আপডেট : ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট ৬ বছর ধরে বন্ধ, ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে চালু

রুকুনুজ্জামান, পার্বতীপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিটটি দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে উৎপাদনের বাইরে থাকা ইউনিটটি এখনো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে ফিরতে পারেনি। দীর্ঘদিন অচল থাকার পর ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে বড় ধরনের ওভারহোলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ২ নম্বর ইউনিটের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা, সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ কারণে ইউনিটটিতে বড় ধরনের ওভারহোলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তথ্য অনুযায়ী, ২ নম্বর ইউনিট সংস্কার করে পুনরায় চালু করতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ইউনিটটি চালু করতে বড় ধরনের ওভারহোলিং প্রয়োজন হবে। এ কাজের জন্য একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছিল বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওরা কাজ করছে। কাজ অনেক দূর অগ্রসরও হয়েছে, হলেই জানতে পারবেন।’ কাজটি কোন প্রতিষ্ঠান করছে জানতে চাইলে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে বর্তমানে ওভারহোলিংয়ের কাজটি কোন প্রতিষ্ঠান করছে, চুক্তির মূল্য কত এবং কাজ শুরুর সুনির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ইউনিটটি উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। যান্ত্রিক সমস্যার পর সেটি আর স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারেনি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ইউনিটটির পুরোনো যন্ত্রপাতির ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে শুধু সাধারণ মেরামত করে ইউনিটটি চালু করার পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ ওভারহোলিং প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ওভারহোলিং বলতে মূলত ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি খুলে পরীক্ষা করা, ক্ষতিগ্রস্ত বা মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রাংশ পরিবর্তন, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং পরবর্তী সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর প্রক্রিয়াকে বোঝানো হচ্ছে।

স্থানীয় ও সাংবাদিকদের দাবি, শুধু সংস্কার নয়, ২ নম্বর ইউনিটের ওভারহোলিংয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, অর্থ বরাদ্দ, কাজ শুরুর সময়সীমা এবং উৎপাদনে ফেরার সম্ভাব্য তারিখ জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ১২৫ মেগাওয়াটের এই ইউনিটটি দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে চালু করা গেলে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ