ফরিদপুরে প্রতারণা করে ধর্মান্তরিত করার পর বিয়ে ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন করছেন এক তরুণী।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকাল থেকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার সুনিল রবি দাসের ছেলে বরুণ রবি দাসের বাড়িতে অনশন শুরু করেন ওই তরুণী।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মুসলিম পরিবারের ওই তরুণীকে (পূর্বনাম সোহাগী আক্তার) মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের জালে ফেলেন বরুণ রবি দাস। পরবর্তীতে তাকে ধর্মান্তরিত করে ‘মৌ রবি দাস’ নাম দিয়ে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট এবং মন্দিরিক রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেন বরুণ রবি দাস।
অভিযোগ রয়েছে- বিয়ের পর টানা প্রায় এক বছর বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করার পাশাপাশি তরুণীর কাছ থেকে আনুমানিক আট লাখ টাকার স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন অভিযুক্ত বরুণ।
বর্তমানে বিয়ের কথা ও স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভুক্তভোগী মৌ রবি দাস ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলি আদালতে বরুণ রবি দাসের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
অনশনরত মৌ রবি দাস বলেন, আমাকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সংসার করেছে এবং আমার সবকিছু শেষ করেছে। বাড়িতে এসে স্ত্রীর দাবি জানানোয় বরুণের মা ও ভাই আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে; কিন্তু ন্যায়বিচার ও অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত আমি এই বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাব না।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বরুণের মা বলেন, বরুণ তাকে নিয়ে সংসার করবে কী করবে না, তা সম্পূর্ণ তার নিজের বিষয়। এতে আমার কোনো মতামত নেই।
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বরুণ রবি দাস বলেন, আমি একটি এনজিওতে চাকরি করি। সোহাগী নামের মেয়েটি ভুয়া এফিডেভিট দেখিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে এবং আমার কাছে আট লাখ টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করছে। উৎস: যুগান্তর।