শিরোনাম
◈ সৌদি আরবের সংকটে শাহজালালে সরাসরি ও ট্রানজিটের ৮২ ফ্লাইটযাত্রায় বিঘ্ন, ভোগান্তিতে ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী ◈ ২ দিন বন্ধের ঘোষণায় সংকট, বেশি দামেও মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার ◈ ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ থাকছে না, জানালেন আইনমন্ত্রী ◈ ডিসি-এসপির সহায়তায় ৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত হলেন চুয়েট উপাচার্য, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান (ভিডিও) ◈ দুর্দান্ত লড়াই করে বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে ম্যাচ ড্র করলো আফগানিস্তান ◈ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়, বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হলিউড অভিনেত্রী ◈ বাংলাদেশে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’, বিদেশি যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা (ভিডিও) ◈ নিউইয়র্কে অপ্রীতিকর ঘটনার পর এখন কেমন আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যা জানালেন লামিয়া মোর্শেদ ◈ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ: প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয়-নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা ◈ সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলকে আবারও আলোচনায় আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৭ দুপুর
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পানি নেই, তবু থামেনি ২০০ বছরের ঐতিহ্য: এক নৌকায় খেজুরতলার বাইচ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: খালে পর্যাপ্ত পানি নেই, নেই প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় সারি সারি নৌকা। তবুও থেমে যায়নি প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্য। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার খেজুরতলা খালে দীর্ঘদিনের নৌকা বাইচের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবার মাত্র একটি নৌকা নিয়েই আয়োজন করা হয়েছে বাইচের।

বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা খালে অনুষ্ঠিত হয় এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুইশত বছর ধরে প্রতি বছর ১ ভাদ্র এ খালে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা এ আয়োজন এখনো স্থানীয় মানুষের আবেগ ও উৎসবের অংশ।

স্থানীয়রা জানান, একসময় নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে খেজুরতলা খাল ও আশপাশের এলাকায় বসত উৎসবের আমেজ। দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন ধরনের বড় বড় নৌকা নিয়ে আসতেন মাঝি ও প্রতিযোগীরা। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের হুঙ্কার আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠত পুরো খালপাড়। দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ উপভোগ করতেন নৌকার পাল্লা।

তবে এবার খালে পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় প্রতিযোগিতামূলকভাবে একাধিক নৌকা নিয়ে বাইচ আয়োজন সম্ভব হয়নি। তারপরও দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নৌকা দিয়ে বাইচের আয়োজন করেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement

প্রতিযোগিতা না থাকলেও মানুষের আগ্রহে কোনো কমতি ছিল না। অনুষ্ঠানস্থলের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে নানা বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। নারী, পুরুষ ও শিশুরা খালের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকার চলাচল উপভোগ করেন। কেউ কেউ আবার ছোট নৌকায় চড়ে খালের পানিতে ভেসে ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনের সাক্ষী হন।

নৌকা বাইচকে ঘিরে খালের দুই পাড়ে বসে শত শত অস্থায়ী দোকান। খেলনা, মিষ্টি, ঝালমুড়ি, চটপটি, খাবার ও কাপড়সহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাইচ না হলেও মানুষের উপস্থিতি ও কেনাকাটায় জমজমাট হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

খেজুরতলা গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ূন কবির (৬৫) বলেন, “খেজুরতলার নৌকা বাইচ এ অঞ্চলের প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্য। একসময় দূর-দূরান্ত থেকে বড় বড় নৌকা আসত। বাদ্যযন্ত্রের তালে মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে খালপাড় মুখর থাকত। সময়ের সঙ্গে সেই জৌলুস কিছুটা কমেছে।”

আয়োজক কমিটির সভাপতি ও চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, খালে পানি কম থাকায় এবার প্রতিযোগিতামূলক নৌকা বাইচ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে একটি নৌকা দিয়ে হলেও আয়োজনটি করা হয়েছে। আগামীতে খালে পর্যাপ্ত পানি থাকলে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের চেষ্টা করা হবে।

আয়োজক কমিটির সদস্য মাওলানা রাশেদ হোসেন বলেন, “এবার একটি নৌকা থাকলেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মানুষের এই ভালোবাসাই আমাদের আশা জোগাচ্ছে যে, ভবিষ্যতে আবারও আগের মতো জাঁকজমকপূর্ণ নৌকা বাইচ আয়োজন করা সম্ভব হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খেজুরতলার দুইশত বছরের এই ঐতিহ্য রক্ষায় খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

  • সর্বশেষ