ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন। কারণ তার দৃষ্টিতে এই নির্বাচন ছিল একটি অর্থহীন এবং প্রহসনের প্রক্রিয়া। ভোট না দেওয়ার তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এজন্য ভোট দিতে যাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর যোগাযোগ করা হলে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার তিনটি কারণ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান রুমিন ফারহানা।
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনও নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা আগে থেকেই সবার জানা ছিল। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলবো। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়। এই ভোটে অংশ নেওয়ার কোনও মানে নেই।’
নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত থাকা
রুমিন ফারহানার ভাষ্যমতে, যে নির্বাচনে কোনও অনিশ্চয়তা থাকে না, তাকে প্রকৃত নির্বাচন বলা যায় না। এই ভোটের ফলাফল কী হতে যাচ্ছে তা সবার জানা ছিল, তাই এটিকে তিনি নির্বাচন না বলে মনোনয়ন বলে আখ্যায়িত করেছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ৬ এমপিরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ৬ এমপি
অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনীত না করা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের যে আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব দল মিলে একজন অরাজনৈতিক ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে না পারাকে তিনি অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখানো
তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল এটি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিষয়টি (সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ) সামনে এনে ভয় দেখিয়েছে। রুমিন ফারহানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি তাদের ‘ভিশন ২০৩০’ নিয়ে বড় বড় কথা বললেও এখন দলের বাইরে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিলের ভয় দেখাচ্ছে, যা এই ভোটকে প্রহসনে পরিণত করেছে।
এই নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে রুমিন ফারহানাসহ মোট ছয় জন এমপি ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন