শিরোনাম
◈ সৌদি আরবের সংকটে শাহজালালে সরাসরি ও ট্রানজিটের ৮২ ফ্লাইটযাত্রায় বিঘ্ন, ভোগান্তিতে ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী ◈ ২ দিন বন্ধের ঘোষণায় সংকট, বেশি দামেও মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার ◈ ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ থাকছে না, জানালেন আইনমন্ত্রী ◈ ডিসি-এসপির সহায়তায় ৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত হলেন চুয়েট উপাচার্য, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান (ভিডিও) ◈ দুর্দান্ত লড়াই করে বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে ম্যাচ ড্র করলো আফগানিস্তান ◈ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়, বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হলিউড অভিনেত্রী ◈ বাংলাদেশে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’, বিদেশি যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা (ভিডিও) ◈ নিউইয়র্কে অপ্রীতিকর ঘটনার পর এখন কেমন আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যা জানালেন লামিয়া মোর্শেদ ◈ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ: প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয়-নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা ◈ সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলকে আবারও আলোচনায় আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৫৯ বিকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হত্যাকারীই বন্ধুর লাশ কচুরিপানার নিচ থেকে তুলে হাউমাউ করে কেঁদেছিলেন

শেরপুরে হত্যার তিন বছর পর চাঞ্চল্যকর অটোরিকশাচালক মন্নাছ (৩৫) হত্যা মামলার মূল আসামি ও মন্নাছের বন্ধু মোস্তাকিন (৩০), মো. শাহীন (৪০) ও মো. স্বপনকে (৪২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শেরপুরে হত্যার তিন বছর পর চাঞ্চল্যকর অটোরিকশাচালক মন্নাছ (৩৫) হত্যা মামলার মূল আসামি ও মন্নাছের বন্ধু মোস্তাকিন (৩০), মো. শাহীন (৪০) ও মো. স্বপনকে (৪২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সন্দেহ যাতে না হয়, সে জন্য হত্যাকারীদের মধ্যে মাস্টারমাইন্ড মন্নাছের বন্ধু শাহীন কচুরিপানার নিচ থেকে মন্নাছের লাশ তুলে হাউমাউ করে কেঁদেছিলেন। এমনকি মন্নাছের লাশ কবরে নামানোর সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। মন্নাছের বাড়ি নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম টালকি গ্রামে। আর হত্যাকারীদের বাড়ি ভিকটিমের পার্শ্ববর্তী গ্রামে।

পিবিআই বলছে, শুধু মন্নাছের অটোরিকশা আত্মসাতের জন্যই তিন বন্ধু মিলে অপর বন্ধু মন্নাছকে হত্যা করেন। হত্যার পরও তিন আসামিই বহাল তবিয়তে এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

Advertisement

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শহরের পুরাতন গরুহাটিস্থ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএম।

পিবিআই সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভাড়ায় অটোরিকশা চালানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন মন্নাছ। নিখোঁজের দুই দিন পর ২৫ ডিসেম্বর সকালে পাঠাকাটা বাঘমারি বিলের কাদামাটিতে কচুরিপানার নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে নকলা থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের সময় স্বপন পুলিশের সঙ্গে থাকলেও তখন কেউ তাঁকে সন্দেহ করেনি।

এ ঘটনায় মন্নাছের স্ত্রী আসমা আক্তার ওইদিন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে দীর্ঘদিনেও মামলার রহস্যের কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ।

এ অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ জুলাই আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়। দীর্ঘ তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, ভিকটিম মন্নাছ ও তাঁর তিন বন্ধু নারী ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। একপর্যায়ে পিবিআই ওই চারজনের সঙ্গে পরিচিত এক রহস্যময় নারীর সন্ধান পায়। ওই নারীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথাবার্তার পর তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম আসামি মোস্তাকিনকে গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এরপর গত ১৭ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শাহীনকে এবং ১৮ আগস্ট অপর আসামি মো. স্বপনকে গ্রেফতার করে পিবিআই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, তার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানান পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

আসামিরা স্বীকার করেছেন, মন্নাছ তাঁদের পূর্বপরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদিন তাঁরা একসঙ্গে থাকতেন এবং মাঝেমধ্যে নারী ও খদ্দের জোগাড় করে দিতেন।

পিবিআই বলছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মন্নাছের অটোরিকশাটি আত্মসাৎ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রথমে স্বপন তাঁকে একটি সুন্দরী মেয়ের প্রলোভন দেখান। স্বপন মন্নাছকে বলেন, মেয়েটি পাঠাকাটা বাজারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এরপর স্বপন অটোরিকশায় ওঠেন এবং মন্নাছ গাড়ি চালিয়ে রওনা হন। পথে অপেক্ষা করছিলেন অপর দুই আসামি মোস্তাকিন ও শাহীন।

একপর্যায়ে চারজন একত্রিত হয়ে চা পানসহ আড্ডা দিতে থাকেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে স্বপন মন্নাছকে জানান, মেয়েটি কাছাকাছি বাঘমারি বিলে এসে গেছে, এখনই সেখানে যেতে হবে।

এরপর মন্নাছের অটোরিকশায় মোস্তাকিন, স্বপন ও শাহীন পাঠাকাটা বাঘমারি বিলের দিকে রওনা হন। বিলের কাছাকাছি গিয়ে মন্নাছ একটি বাড়ির পাশে অটোরিকশাটি তালাবদ্ধ করে রাখেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মোস্তাকিন মন্নাছের গলা চেপে ধরেন। শাহীন ও স্বপন তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে মন্নাছ মারা যান।

পরে তাঁরা মন্নাছের মরদেহ কাদা ও কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে চলে যান। এরপর অটোরিকশাটি ভেঙে লোহার বডি ভাঙারির দোকানে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এছাড়া নকলা বাজারের একটি ব্যাটারির দোকানে চারটি ব্যাটারি ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। উৎস: বিডি-প্রতিদিন।

 

  • সর্বশেষ