শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৩১ বিকাল
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:২৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা গায়েব, ব্যাংক কর্মকর্তাসহ কারাগারে ২ জন

চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা গায়েব হয়ে গেছে। এ টাকার হিসাব না মেলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) ও তার সহযোগী মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে (২৫) আসামি করে মামলা করে ব্যাংক। নগরের লালদীঘির পাড় জেলা পরিষদ ভবনে শাখাটি অবস্থিত। গ্রাহকদের জমা করা আমানতের অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি আজ বৃহস্পতিবার জানাজানি হয়। এর আগে ১০ আগস্ট ব্যাংকের দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে কারাগারে পাঠায় আদালত। 

অগ্রণী ব্যাংক লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকটিতে কামরুল হোসেন ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন। ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তী হিসাব-নিকাশ, ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। কামরুল হোসেন ঘাটতির বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করার তথ্য পাওয়া যায়। 

কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, ভল্টে টাকা জমা দেওয়ার সময় ১ হাজার টাকার বড় বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের ছোট নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। এতে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে ভল্টে টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম থাকতো। এই অর্থ হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামের একটি গরুর খামারে বিনিয়োগ করা হয়। খোজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে সেখানে ৫০ থেকে ৬০টি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে।

মামলার আরেক আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ বলেন, তানভীর ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নয়। সে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করে। অথচ তাকে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জড়ানো হয়েছে। ৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে আমার স্ত্রীর মোবাইলে ব্যাংক থেকে ফোন করে বলা হয়, আপনার ছেলে লালদীঘি ব্যাংকে আটক আছে। এর আগে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন অন্যদিনের মতো আমার ছেলেকে ফোন করে ব্যাংকে ডেকে নিয়ে যান। আমার ছেলে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করতেন। ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন মাঝেমধ্যে তাকে লাভে টাকা দিতেন এবং পরে লাভসহ নিয়ে নিতেন। আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে।

লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমার বক্তব্য এজাহারে উল্লেখ করেছি। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে।  

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়