সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : টেকনাফ সদর ইউনিয়ন নাজির পাড়া সীমান্ত দিয়ে কারবারিদের কাছে হস্তান্তরের আগেই টেকনাফে ৫ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মিয়ানমার নাগরিক আটক করেছে র্যাব-১৫। আটক ব্যক্তিরা মিয়ানমারের সংঘবদ্ধ মাদক চোরাকারবারি চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার র্যাব-১৫ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ সুত্রে জানা যায়, গত ১০ দিনে তাদের বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ৮ লাখ পিস ইয়াবা, ৭৬ দশমিক ২ কেজি গাঁজা, সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, ৭৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে অপহৃত দুই ভিকটিমকে উদ্ধার এবং মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত ৪২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এর আগে র্যাব-১৫ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল জানতে পারে, মিয়ানমার থেকে নাফ নদীপথে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক ইয়াবার চালান নিয়ে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
পরে ভোর আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে নাজির পাড়া এলাকায় জনৈক ফজল করিমের মাছের ঘেরের দক্ষিণ পাশে ধানের ছড়া খালের কাঁচা সড়কে অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা দুটি বস্তা তল্লাশি করে ৫ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। র্যাবের দাবি, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, মিয়ানমার পিন্ডিসং জেলার ফর্তু থানার সুলিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে করিম আলী (৩২) এবং রাখাইন (আরাকান) প্রদেশের মংডু জেলার মংডু থানার দলিয়া পাড়া গ্রামের সৈয়দ হোসেনের ছেলে হাসান আরাফ (৪৪)।
র্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজনই নিজেদের মিয়ানমারের নাগরিক বলে স্বীকার করেছেন।
অপরদিকে, গত ১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বড়ইতলী এলাকা থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে র্যাব। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করে আসামিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন।