হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল (জুট মিল) স্থাপনের দীর্ঘদিনের দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের ২০ জুলাই পাঠানো আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের আলোকে সালথায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। স্থানীয়ভাবে পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠলে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী—সবাই উপকৃত হবেন।”
সালথা দেশের অন্যতম পাট উৎপাদনকারী এলাকা। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ফরিদপুর জেলায় বছরে দুই লাখ টনের বেশি পাট উৎপাদিত হয় এবং এর বড় একটি অংশ আসে সালথা উপজেলা থেকে। কিন্তু এলাকায় কোনো পাটকল না থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত পাট অন্য জেলায় পাঠাতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি অনেক সময় তারা ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হন।
স্থানীয়দের মতে, সালথায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপিত হলে কৃষকরা সরাসরি পাট বিক্রির সুযোগ পাবেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
এর আগে এ বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং নাগরিকদের দাবির পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার মাধ্যমে পাটকল স্থাপনের দাবি এখন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের বিশ্বাস, সালথায় একটি আধুনিক পাটকল প্রতিষ্ঠিত হলে এটি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানই হবে না, বরং পুরো অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন গতি এনে দেবে এবং দীর্ঘদিনের বেকারত্ব সমস্যা নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।