শিরোনাম
◈ প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান নিয়ে সুখবর ◈ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব তারেক রহমানকে দিলো বিএনপি ◈ র‍্যাবের ‘আয়নাঘরে’ ৭ ‘ডেথ সেল’, মিলল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য (ভিডিও) ◈ সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে কড়া সতর্কতা ◈ কারাতে দক্ষতার প্রদর্শন, কাঠের তক্তা ভাঙলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ (ভিডিও) ◈ দেশের সব বন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ বাংলাদেশি হিন্দুরা অনুপ্রবেশকারী নয়, তারা শরণার্থী: শুভেন্দু ◈ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ, আগামী সপ্তাহে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ ব্যবসায়ী ◈ সম্পত্তি লিখে দিলেও থাকবে বাবা-মায়ের অধিকার, সম্পত্তি আইনে আসছে যুগান্তকারী সংশোধন ◈ কোনো ওষুধ নেই, নেই টিকাও! পৃথিবীর বুকে হাজির আরেক ভয়ংকর মহামারি?

প্রকাশিত : ০১ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:৩৫ রাত
আপডেট : ০১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘মারাত্মক ম্যালেরিয়া’ থেকে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন রোহিঙ্গা যুবক মোক্তার আহমদ

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারের আলোচিত উখিয়ার শরণার্থী শিবিরের ৪ নম্বরের সি৪ ব্লকের ২৩ বছরের রোহিঙ্গা যুবক মোক্তার আহমদ মায়ানমারের জান্তা বাহিনীর হাতে ৬ মাস বন্দি থাকার পর গেলো ২৪ জুন আশ্রয়শিবিরে ফিরে এসেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস বন্দি থাকার পর আশ্রয়শিবিরে ফিরে দুইদিনের মাথায় ক্যাম্প-২০ এক্সটেনশনে এক আত্মীয়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। আর সেই যাওয়াটাই তার জন্য কাল হয়ে এসেছে। ওখান থেকে ফিরে তিনি প্রচন্ড জ¦র ও দুর্বলতায় পড়ে যান। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে দ্রুত নেয়া হয় আশ্রয়শিবিরে স্থাপিত ফ্রেন্ডশীপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে (হাসপাতাল)। ওখানে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ধরা পড়ে তিনি মরণঘাতি মারাত্মক ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত। 

মারাত্মক ম্যালেরিয়া সনাক্তের পর ফ্রেন্ডশীপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্রুত ব্র্যাক ম্যালেরিয়া টিমকে জানান। ওরা একটি র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট (আরডিটি) করেন, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় রোহিঙ্গা যুবক মোক্তার আহমদ প্লাজ মোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত। তার শারীরিক অবস্থা এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বিবেচনা করে, জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির (এনএমইপি) চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী রোগীকে অবিলম্বে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (ইউএইচসি) পাঠানো হয়। হাসপাতালের মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে রোগীকে ইনজেকশনযোগ্য আর্টেসুনেট, শিরায় তরল, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসা দেয়া হয়।

ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতাল, ব্র্যাক ম্যালেরিয়া টিম ও উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবিশ^াস্য দ্রুত চিকিৎসায় মোক্তারের শারিরিক অবস্থার ক্রমাগত উন্নতি হতে থাকে। তার জ্বর কমে আসে, শারীরিক শক্তি ধীরে ধীরে ফিরে আসতে শুরু করে এবং নিয়মিত ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নে চিকিৎসায় ইতিবাচক সাড়া মিলে। 

নির্ধারিত চিকিৎসা পদ্ধতি সফল ভাবে শেষ করার পর মোক্তারকে পহেলা জুলাই স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। যেন, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন রোহিঙ্গা যুবক মোক্তার আহমদ। 

উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র সুত্র বলছে, মোক্তার এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। তার পরিবারের সাথে স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম আবারও শুরু করেছেন। 

তারা দাবি করছে, রোহিঙ্গা যুবকের এই প্রাণ ফিরে পাওয়া মূলত প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, দ্রুত রেফারেল, মানবিক স্বাস্থ্য কর্মীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার কারণেই সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনাটি দেখায় যে, কিভাবে সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ এবং জাতীয় চিকিৎসা প্রোটোকল মেনে চলা জীবন বাঁচাতে পারে এবং ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী জনগোষ্ঠীর মধ্যে গুরুতর ম্যালেরিয়ার বোঝা কমাতে অবদান রাখতে পারে। 

যেভাবে সমন্বয় হলো ম্যালেরিয়া চিকিৎসা সেবায়

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির গুলোতে ম্যালেরিয়া রোগী ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে এবং রেফারেল ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কারিগরি সহায়তায় চলতি বছরের ১২ থেকে ১৪ মে কক্সবাজারে তিনদিনের এক ‘ম্যালেরিয়া রোগী ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি ব্যবস্থা কর্মশালা’ আয়োজন করেছিল। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির গুলোর বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ৯০ জন চিকিৎসক এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। কক্সবাজার সিভিল সার্জন এবং উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচঅ্যান্ডএফপিও) এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

সুত্র বলছে, ওই কর্মশালাটিতেই অংশগ্রহণকারিদের দ্রুত রোগ নির্ণয় ও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা (ইডিপিটি) কৌশল, জাতীয় ম্যালেরিয়া চিকিৎসা নির্দেশিকা এবং গুরুতর ম্যালেরিয়া রোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত রেফারেল পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। অংশগ্রহণকারি সকল চিকিৎসককে ম্যালেরিয়াজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুহার কমাতে দ্রুত শনাক্তকরণ, তাৎক্ষণিক রেফারেল এবং সমন্বিত রোগী ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো হয়।

আয়োজকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের আগে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির গুলোতে শনাক্ত হওয়া সকল গুরুতর ম্যালেরিয়া রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ভাবে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হতো। সময় মতো চিকিৎসার সুযোগ উন্নত করতে এবং বিলম্ব কমাতে, গুরুতর ম্যালেরিয়া রোগী ব্যবস্থাপনায় উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (ইউএইচসি) সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়েই ব্র্যাক পরবর্তীতে ২০২৬ সালের মে মাসে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেসান উল্লাহ সিকদার এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা দলের সাথে একটি সমন্বয় সভার আয়োজন করেছিল।

বৈঠকের পর জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির (এনএমইপি) নির্দেশিকা অনুযায়ী উখিয়া ইউএইচসিতে গুরুতর ম্যালেরিয়া রোগীদের ভর্তি ও ব্যবস্থাপনার জন্য হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল টিমকে নির্দেশনা দেন ডা. এহেসান উল্লাহ সিকদার। 

উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেসান উল্লাহ সিকদার জানিয়েছেন, ক্যাম্প স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো থেকে রোগী শনাক্তকরণ, গ্রহণকারী হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ, পরিবহন সহায়তা এবং রেফারেলের ফলোআপসহ রেফারেল প্রক্রিয়াটি ব্র্যাক সমন্বয় করবে। ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় সম্পৃক্ত সবপক্ষই এ বিষয়ে একমত হয়েছে।  

জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের সার্ভিল্যান্স মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়, দ্রুত রেফারেল এবং জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির গাইডলাইন অনুসরণের মাধ্যমে মুমূর্ষু ম্যালেরিয়া রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব—এই সাফল্য তারই প্রমাণ।

তিনি বলেন, উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারাত্মক ম্যালেরিয়া চিকিৎসার সুব্যবস্থা করে রোগীটির জীবন রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য জাতীয় কর্মসূচির পক্ষ থেকে আমি উখিয়ার ইউএইচএন্ডএফপিও ডাঃ আহসান উল্লাহ সিকদারের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়